আলোড়ন নিউজ
Lead News সারাদেশ

অগ্নিকান্ড রোধে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক,আলোড়ন নিউজ: অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে এবং দুর্ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অন্তত ১২ দফা অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (০১ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব অনুশাসন দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুশাসনের মধ্যে রয়েছে, বহুতল ভবন তৈরির আগে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করা ইত্যাদি। বৈঠকে বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নি দুর্ঘটনায় শোক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৩০ জন আহত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভা শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু অনুশাসন প্রদান করেন

একগুচ্ছ নির্দেশনা

বহুতল ভবন যখন তৈরি করা হবে, তখন ফায়ার সার্ভিস সাধারণত একটা ক্লিয়ারেন্স দেয়। ক্লিয়ারেন্সই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে পরিদর্শন করে এটা ভায়াবেল কিনা- এটা নিশ্চিত করা।

অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিত পরিদর্শন করা এবং ফায়ার সার্ভিসের যে অনুমোদন দেয়া হয় সেটি শিল্পের মতো প্রতিবছর একবার করে নবায়ন করা যায় কিনা- সেটি বছরে বছরে দেখা।

বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা।

এক থেকে তিন মাসের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে ফায়ার ড্রিল বা মহড়া করা, যেন সবাই সচেতন হয়।

আগুনে শ্বাস বন্ধ হয়ে অনেকে মারা যায়, আগুনের চেয়ে ধোয়ার কারণে মানুষ মারা যায়। পৃথিবীর অনেক দেশেই ধোয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেজন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা আছে। ধোয়া যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে আগুনে মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে। এই ধোয়াটা বন্ধ করার টেকনিটক আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয়, সেটা আমরা কীভাবে নিতে পারি।

পানির অভাবের কারণে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিভাতে পারে না, পানির অভাবজনিত সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঢাকা শহরের যে খাল, ডোবা, ঝিল ছিল এগুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে। যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরি করে পানির অভার পূরণ করা।

লেকগুলো সংরক্ষণ করা, যেমন ধানমন্ডি লেক, গুলশান লেক এগুলোকেও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

ফায়ার সার্ভিস বিভাগের তিনটি ল্যাডার আছে, যা ২৩তলা পর্যন্ত যেতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের এই সক্ষমতা বা সংখ্যা বাড়াতে হবে।

যারা আর্কিটেক্ট আছেন, তারা যেন ভবনের প্ল্যান আমাদের পরিবেশ এবং বাস্তবতার দিকে চিন্তা-ভাবনা করে করে। যেমন- ঘরগুলো যেগুলো তৈরি করা হয় সেগুলো অনেকটা ম্যাচ বাক্সের মতো অর্থাৎ এখানে কোন দরজা-জানালা বাইরে থাকে না। যেমন- গ্লাস দিয়ে ব্লকড, এসি করা; এটা ভেঙে বের হতে হয়েছে এবার। এজন্য যদি জানালা-দরজা-বারান্দা থাকে সেখানে থাকার সুযোগ হয়।

ফায়ার এক্সিট আমাদের দেশে কাজ করে না, এটা নিশ্চিত করা প্রতিটি দালানে। সব ভবনে শতভাগ ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা।

অনেক জায়গায় ইলেকট্রনিক সিস্টেমে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ফায়ার এক্সিটগুলো সব সময় খোলা থাকবে। এটা যাতে মেন্যুয়ালি হ্যান্ডেল করা যায়।

অনেক দেশে তারপোলিং সিস্টেমে মানুষ ঝুলে নামতে পারে, এটা যেন থাকে। অর্থাৎ বড় কাপড়ে ঝুলে নেমে যেতে পারে।

বিশেষ করে হাসপাতাল এবং স্কুলগুলোতে অবশ্যই বারান্দা বা খোলা জায়গা রাখা।

লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার কারণে অনেকে আহত হয়েছে এবং মারা গেছে।

আগুনের সময় অনেকেই লিফট ব্যবহার করেন, সারা বিশ্বেই আগুনের সময় লিফট ব্যবহার করা হয় না। এটা মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে, সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রতিটি ভবনে একাধিক এক্সিট যেন থাকে, অনেক সময় মানুষ হুড়োহুড়ি করে নামে, এটা যেন না হয়।

ঢাকা শহরে ২৪টি টিম ভবনগুলো পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবে, যেটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা দরকার হলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বৈঠকে জানিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এফ আর টাওয়ারে অগ্নি দুর্ঘটনার পর তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দোষীদের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো:

১. বহুবল ভবন তৈরির সময় ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি সেটা ‘ভায়াবল’ কি না নিশ্চিত করা।

২. অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। ফায়ার সার্ভিসের যে অনুমোদন দেওয়া হয় কারখানার মত তা প্রতি বছর নবায়নের ব্যবস্থা করা।

৩. বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা।

৪. এক থেকে তিন মাসের মধ্যে অগ্নি নির্বাপন মহড়া করা।

৫. অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু এড়াতে ভবনে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন

৬. পানির অভাবে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিস কাজ করতে পারে না; তাই যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরি করা।

৭. লেকগুলো সংরক্ষণ করা।

৮. বহুতল ভবনে ওঠার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারের সংখ্যা বাড়ানো।

৯. প্রকৌশলীরা যেন পরিবেশ ও বাস্তবতার নিরেখে অবকাঠামোর নকশা করেন, তা নিশ্চিত করা।

১০. প্রতিটি ভবনে ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা।

১১. অনেক জায়গায় ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার এক্সিট যেন সব সময় ওপেন থাকে, অর্থাৎ ম্যানুয়ালি যেন তা খোলা যায়।

১২. জরুরি প্রয়োজনে মানুষ যেন বহুতল ভবন থেকে তারপুলিনের মাধ্যমে ঝুলে নামতে পারে, সেই পদ্ধতি চালু করা।

১৩. প্রতিটি হাসপাতাল ও স্কুলে বারান্দাসহ খোলা জায়গা রাখা।

১৪.ভবনে আগুন লাগগে লিফট ব্যবহার না করা।

১৫. প্রতিটি ভবনে কমপক্ষে দুটি এক্সিটওয়ে রাখা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (০১ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এইসব নির্দেশনা দেয়া হয়। বৈঠকে শেষে ব্রিফ্রিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের একথা জানান।

Related posts

আলিয়া-বরুন কেড়ে নিলো সালমান-মাধুরীর জায়গা।

Nurul Alam

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটই নির্বাচনে জেতেন মমতা : অমিত শাহ

Ashish Mallick

নিউজপোর্টালসহ অর্ধ শতাধিক ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশ

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.