আলোড়ন নিউজ
Lead News মুক্তমত

গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
 খালেদ নিজাম, আরোড়ন নিউজ: গণমাধ্যমকে যে কোন দেশে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়।গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। যেখানে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের একটি সার্বিক চিত্র আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে।ইলেকট্রনিক ও মুদ্রণ মাধ্যম- এ দুই ধরনের গণমাধ্যম বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চালু আছে।চালু রয়েছে অনলাইন গণমাধ্যমও।আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়।স্বাধীনতা-পরবর্তী বিগত নব্বই দশকের গোড়া থেকে আমাদের দেশে গণমাধ্যমের
সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে পরিসর। একসময় কেবল বিটিভি ও দু-একটি পত্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল গণমাধ্যম।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংবিধানস্বীকৃত।এই পরিচিতি থাকার পরও অনেক সময় গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ আর কড়াকড়ির বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে হয়।মন খুলে, স্বাধীন ও নির্ভয়ে প্রকাশের পরিবেশ অনুপস্থিত থাকে।এরপরও গণমাধ্যমের থেমে নেই অসঙ্কোচ প্রকাশের পথচলা।সরকার  এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন নানা সময়।গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।
অন্যদিকে, বেশ কিছু গণমাধ্যম তাদের নিজস্ব ধ্যানধারণা নিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলে অন্য কোনো পক্ষকে। নিরপেক্ষ ও সত্য প্রকাশে দৃঢ় থাকতে পারে না। অথচ একটি গণমাধ্যমের এটিই প্রাণ।আবার বেশ কিছু গণমাধ্যমে চোখ পড়লেই বোঝা যায়, কে কার কিংবা কে কোন মানসিকতাসম্পন্ন বা কোন মতাদর্শ লালন করেন।যেটি হওয়া মোটেই উচিত নয়।সংখ্যায় কম হলেও কিছু গণমাধ্যম চেষ্টা করে তার সত্যটুকু প্রকাশ করতে।
গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতি, সমস্যা, পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করতে পারে।বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে পাঠকের সামনে খোলাসা করতে পারে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়কে।
অনেক গণমাধ্যম জীবনধর্মী ও বাস্তবভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দেয়,যে কারণে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। সতর্ক হন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলোর অনেকগুলোর মালিক ও পৃষ্ঠপোষক রয়েছেন সমাজের প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি।তাদের মতামত নিতে গিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে সেসব গণমাধ্যমকে খবর প্রচারে বেশ কিছু কাটছাঁট করতে হয়। সংবাদ ও বিভিন্ন টকশো বা বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করতে হয় ভেবেচিন্তে।কোনো ছুঁতোয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত কর্তৃপক্ষের। আর গণমাধ্যম ও তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবে- এটিই সবার প্রত্যাশা।দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আমাদের দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক সমাজে বিভাজন দেখা যায়।বিষয়টি অবাধ তথ্য সরবরাহের অন্তরায়।গণমাধ্যম ও এর সাথে সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে পাঠক ও দর্শকদের আস্থা অর্জন করা।
সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রকাশে দৃঢ় থাকা। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যা আরো শক্তিশালী হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠিন ঐক্য থাকতে হবে, মতভিন্নতাকে দূরে ঠেলে এগিয়ে যেতে হবে।পৃষ্ঠপোষকতা ও বিভিন্ন কারণে যেসব গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো আবার চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।
ঘটনার নির্যাস হুবহু তুলে ধরে মানুষের মধ্যে অবাধ তথ্য সরবরাহ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।কোনো ধরনের ভয়ভীতি ও চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে প্রকৃত খবরটি প্রকাশ করা জরুরি।সমাজ ও দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করতে পারে গণমাধ্যমগুলো।
আমাদের গণমাধ্যম তার দায়িত্ব পালনে অটল থাকবে, ঐক্যবদ্ধ থাকবে সাংবাদিক সমাজ, বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে ভূমিকা রাখবে- এটিই কামনা করি। কোনো কারণে গণমাধ্যমের চলার পথ রুদ্ধ হোক, খর্ব
হোক স্বাধীনতা এটি আমরা চাই না।
আমরা চাই, বন্ধ থাকা সব গণমাধ্যম খুলে দেয়া হোক। নির্ভয়ে তার দায়িত্ব পালন করুক সব সংবাদকর্মী।আস্থা অর্জন করুক সব গণমাধ্যম।

Related posts

পবিত্র নগরী মক্কা ও জেদ্দায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Mostafij Rahman

সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির নির্বাচন : দ্বিতীয় দিনে ভোট গ্রহণ শুরু

Ashish Mallick

তাবলীগে থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন আরিফ হোসেন ছোটন

Mamun Sheikh

3 comments

oprolevorter September 8, 2019 at 6:55 pm

Hi, Neat post. There’s a problem along with your site in web explorer, might test this… IE nonetheless is the marketplace leader and a huge component to other people will leave out your magnificent writing because of this problem.

Reply
Acisiondivior September 12, 2019 at 4:24 pm Reply

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.