আলোড়ন নিউজ
জাতীয়

আমার দেখা সাদা মনের মানুষ রামুর সংবাদিক আব্দুল মালেক সিকদার

২০১১ সালের ৫ ই মার্চ আমার একটি স্মরনীয় দিন। যে দিন মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে ফিরে এসেছি। তখন আমি চাকরি করতাম রামু কাউয়ার খোপ ইউনিয়নের উখিয়ার ঘোনা স্কুল পাড়া আজিজিয়া নূরুল উলুম মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানে।

আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের কোন এক প্রোগ্রামে ৫ জন স্টাফ টেক্সি যোগে জোয়ারিয়া নালা যাওয়ার পথে হঠাৎ রামু চা বাগান নামক স্থানে মারাত্বক এক্সিডেন্ট করি। মুখামুখি সংঘর্ষ হয়, আমাদের টেক্সি আর একটি ডাম্পারের সাথে বিকট আওয়াজ হয়, উড়িয়ে দেয় আমাদের বহন করা টেক্সিকে। ৩ টুকরো হয়ে যায় টেক্সি। একটা একেক জায়গায় পড়ে রইল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভাগ্য আমাদের অনেক ভাল ছিল মৃত্যুর স্বাদ কাউকে গ্রহন করতে হয় নি। কিন্তু সবাই বেশি আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলাম। আঘাত প্রাপ্তদের মধ্যে আমি ছিলাম দ্বিতীয়। তাই অজ্ঞান ছিলাম, কে নিয়ে আসল আমাকে ফুুুয়াদ আল-খতিব হাসপাতালে তাও জানি না। জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম ফ্যামেলির সবাই আমার পাশে, তাদের কাছে আমি ছাড়া বাকিদের কথা জানতে চাইলে বলে সবাই আঘাতপ্রাপ্ত তবে হাফেজ নূরুল আমিন একটু আশংকাজনক তাই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আমাদের এক্সিডেন্টের কথা শুনে মাদ্রাসার ছাত্র,শিক্ষক, গার্ডিয়ান সবাই চলে আসে ঘটনাস্থলে, অবরুধ করে রাখে রাস্তা, জব্দ করে ঢাম্পার, সাথে সাথে পুলিশও চলে আসে, পুলিশ জব্দকৃত ঢাম্পার থানায় নিয়ে যেতে চাইলে ছাত্ররা প্রতিবাদ করে ফলে গাড়ি স্থনীয় চেয়ারম্যান নূরুল হকের কাছে গচ্ছিত রাখে বিচারকাল পর্যন্ত।

ঢাম্পার গাড়ির মালিক ছিল স্থানীয় কলঘর বাজারের প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ব। তাই সে ওই এক্সিডেন্টকে কোন গুরুত্ব দিল না। এমন কি কাউকে দেখতেও গেল না । বরং উল্টো হুমকি দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছিল। সামান্য সুস্থ হতেই ওসি রামু থানা কল দিয়ে বলে আগামী কাল থানায় আসতে হবে, তার কথামত পরের দিন থানায় উপস্থিত হলাম।

ওসি আগে থেকে বলেছে গাড়ির মালিক নাকি আমাদের নামে মামলা করবে, গাড়ি থানায় রাখিনি তাই। চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তির কাছে কল দিয়েছিলাম কাজ হল না। রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালী কাউকে বিপদের সময় পাশে পেলাম না। সবাই টাকার কাছে হার মেনেছিল। প্রশাসন ও আমাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে গিয়েছিল, গাড়ি থানার হেফাজতে না রাখার কারণে ।

এমন পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছিলাম নিজের উপর নিজের ঘৃনা জন্মাতে লাগল। মনে হতে লাগল কেন এক্সিডেন্টে ওপারে চলে গেলাম না।
ভরাক্রান্ত মন নিয়ে থানার সামনে চায়ের দোকানে বসে থাকলাম।

হঠাৎ দেখা হল দেবদুতের মত সাহসী সাংবাদিক প্রিয় ব্যাক্তিত্ব আব্দুল মালেক সিকদারের সাথে, তার সাথে আমার আগে থেকে পরিচয় ছিলনা কিন্তু আমার সাথে এক্সিডেন্ট হওয়া ডাক্তার ছৈয়দ নূরের ছোট ভাই মৌলভী কলিম উল্লাহর ঘনিষ্ট আত্মীয় হওয়ায় তার সাথে পরিচয়, সে জিজ্ঞেস করল থানায় কি জন্যে আসা।

তখন তাকে শুরু থেকে সব কিছু খুলে বললাম। সে আমাদের বলল আগামী কাল ঠিক১০টায় আবার থনায় এসো আমি দেখব। সে বলল আমি শুনলাম কিন্তু তার উপর ভরসা হচ্ছিল না। যেখানে চেয়ারম্যান নিরব সেখানে সে কি করবে। তারপর ও বাধ্য হয়ে আসলাম পরের দিন।

সে আমাদের সাথে নিয়ে ওসির রুমে প্রবেশ করল। আমাদের দেখতেই ওসি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল বলল কেন আসছো আবার? ওসির কথা হল আগে গাড়ি থানায় নিয়ে আস পরে বিচার হবে, আর এদিকে আমরা আশংকা করেছি থানায় গাড়ি জমা করলে টাকা নিয়ে মালিককে গাড়ি দিয়ে দেবে।

কিন্তু মালেক সিকদারকে দেখে ওসির স্বর একটু পরিবর্তন হল। পরে ওসিকে বলল মালেক সিকদার এরা আমার লোক আমি এদের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি, গাড়ির মালিককে ডেকে এটা সামাধান করে দিন। আমি এটার নিরসন চাই।এবং তা আজই, সিকদারের এই কথাতে ওসি একটু নরম্যাল হল কারন এর আগেও নাকি একবার ওসির বিরুদ্ধে নিউজ করে ওসিকে বিপাকে ফেলেছিল। আর তাই সাথে সাথে এসআইকে আজকের মধ্যে এটার একটা নিষ্পত্তি করে দেয়ার নির্দেশ দেন ওসি।

যার প্রেক্ষিতে এস আই গাড়ির মালিককে ডেকে বৈঠক শুরু করে, শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে সম্পূর্ন টাকা আমাদের হাতে তুলে দেয় মালেক সিকদার। একটা চায়ের পয়সাও নেয়নি সে। তার এই কৃতকর্ম দেখে সে দিন সত্যিই আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।

এবং সেটা আমার কাছে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে। আর তাই আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এই সদা মনের সৎ লোককে। সেদিন সে প্রমাণ করে দিয়েছিল যেখানে রাজনীতিবিদ কিংবা প্রভাবশালীদের শেষ সেখান থেকে একজন সাংবাদিকের শুরু।

আমার দেখা আব্দুল মালেক সিকদারের সেই কৃতৃত্বের পর থেকেই আমি নিজেকে সাংবাদিকতায় ফিট করার চেষ্টা করে আসছি সফল হয়েছি। এবং সামনে আরো সফলতা কাম্য।

পরিশেষে দোয়া করি প্রিয় আইডল সাংবাদিক আব্দুল মালেক সিকদারের জন্য এবং তার পরিবার পরিবর্গের জন্য। সাথে সাথে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আল্লাহ কবুল করুন। আমিন….

লেখক
এম.মোস্তফা কামাল আজিজি
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী
উখিয়া উপজেলা।
নির্বাহী সম্পাদকঃ পাহাড়িকা

Related posts

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা: প্রধানমন্ত্রী

Ashish Mallick

আগামী বাজেটে ২ লাখ ২৭২১ কোটি টাকার এডিপি চূড়ান্ত

Ashish Mallick

নুসরাতের জন্য আওয়ামী আইনজীবি বহিষ্কার।

Nurul Alam

1 comment

Svensk sökoptimering February 28, 2020 at 8:10 pm

Good post but I was wanting to know if you could write a litte more on this subject?
I’d be very thankful if you could elaborate a little bit
more. Thanks!

Reply

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.