আলোড়ন নিউজ
Lead News মুক্তমত

ইংরেজি ও আমার দুর্বলতা

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান:

সময়টা তখন ২০০৭ সাল। বাড়ির কাছেই মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির ২য় মডেল টেস্ট পরীক্ষা শেষ করলাম। যথারীতি রেজাল্ট প্রকাশিত হল। ইংরেজিতে পেলাম ৩৩! রেজাল্ট আগেই পেয়েছিলাম এটা। হেলেনা ম্যাম নামের কেউ হয়ত আমার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন। ওনি আবার আমার বিদ্যালয়ের হেড স্যার জনাব আব্দুর রাজ্জাক স্যার এর স্নেহভাজন ছিলেন। তাই বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রের ইংরেজিতে করুণ দশা বলতে কার্পণ্য করেন নি। গোটা বাজার কিংবা শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিগণের নিকট রীতিমতো ব্রেকিং নিউজ ছিলাম কদিন। বাড়িতে বকুনি তো আছেই। আমায় বকুনি দিয়েই বা কি লাভ? এখনকার বাচ্চাদের ক্লাস ওয়ান থেকেই যেমন টিউটর কিংবা গাইড থাকে সেটা তো ছিলই না সাথে আমার বোনের ক্লাস টুতে পড়ার সময় বিয়ে হয়ে যাবার পর সব পাঠ একা নিজে নিজে সামলিয়ে উঠতাম। যা হোক এমন দশাতে কেউ একজন বলেছিলো বইটা ভাল করে পড়ো তাহলে সমাপনীতে ভাল কিছু আসবে। সেই অনুযায়ী আল্লাহ রহমতে তখন ৮৮ পেয়েছিলাম। কিন্তুু দুর্বলতাটা রয়েই গেল। পরবর্তী এসএসসির আগ পযর্ন্ত ইংরেজিতে যা পেতাম তা ছিল এভারেজ মার্ক যাকে বলে ৬০ কিংবা ৭০ এর মাঝামাঝি। ব্যতিক্রম ছিল ক্লাস সিক্সের বার্ষিক পরীক্ষায় জীবনের সর্বোচ্চ মার্কটা পেয়েছিলাম। সেটা ছিল ৮৯।

যাহোক, এসএসসিতে ভাল রেজাল্ট এর প্রত্যাশায় টেষ্ট পরবর্তী কোচিং করতে আমরা বন্ধুদের ৬ জন জেলা শহর ময়মনসিংহে পাড়ি জমাই। সেরা একটি কোচিং এ প্রস্তুতিও সারলাম। নাম ছিল কোচিং এর মেধাসিড়ি। যথারীতি এস এস সি পরীক্ষা ছিলাম। রেজাল্টও প্রকাশিত হল। সকলের প্রত্যাশিত অনুযায়ী রেজাল্টটা উপহার দিতে পারি নি সেসময়। ভীলেন সেই ইংরেজি। পেয়েছিলাম এ মাইনাস। অবশেষে ভর্তির অনেক নাটকীয়তা শেষে শেষ ঠিকানা হল ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। থাকতাম রাজধানীর তেজগাঁও এর সাতরাস্তায় হাতিরজিল সংলগ্ন। রুমে সময় পেলে ভাল লাগলে শুধু শুধুই ভোকাভোলারি দেখতাম ইংরেজির। পটপট করে কথা বলা আছে না? সেটা আমি ভালই পারতাম। একদিন শুনলাম কজন বন্ধু মিলে একটা স্পোকেন ইংলিশ কোর্স করতে যাচ্ছে। তাদের ডাকে আমিও সাড়া দিয়ে ভর্তি হলাম সুপিরিয়র বিডি ঢাকা নামক এক প্রতিষ্ঠানে। বাসা থেকে কাছেই ছিল। তখন আবার এটাতে যাওয়া আসার ফাকে বেশ অনেকগুলো টিউশনি করাইতাম। তাদেরকেও ইংরেজি পড়াইতাম। স্পোকেন ইংলিশ কোর্সটা করার পর কেমন যেন ইংরেজি পড়তে বলতে খুব ভাল লাগত। যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন এমদাদুল হক স্যার(ডিরেক্টর) সুপিরিয়র বিডি।

এদিকে ডিপ্লোমা কোর্স শেষদিকে বন্ধু ইকরাম এর অনুপ্ররেণায় তখন নিয়ত ঠিক যে দেশের বাহিরে পড়তে যাব। নিতে হবে স্কলারশীপ। ভর্তি হলাম একসঙ্গে ইকরাম,মাহফুজ ভাই, প্লাবন রুপ, অন্তু একইসাথে আবারো পুরুনো ঠিকানায়। সুপিরিয়র বিডিতে। আবারো এমদাদ স্যার গাইডলাইন এর দায়িত্বে সাথে পেয়েছিলাম আনিস স্যারকে। কোর্সটার নাম IELTS। পেতে হবে ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে ৭। ভাল স্কলারশীপের জন্য। শেষও করলাম। কিন্তু পাকাপোক্ত ভাবে নয়। কারনটা ছিল ইতিমধ্যে বন্ধু রাসেল চীনে যাবে। চীন যাবার আগ্রহ থেকে। ওখানে IELTS টা দেখাতে হয় না। অর্জন বলতে নিয়মিত লেঙ্গুয়েজ ক্লাবে যোগদান, দ্রুত কোন টপিকস এর উপর আলোচনা তৈরী। কিংবা বিষয় ভিক্তিক যুক্তিতর্কতে একটু নিজেকে এগিয়ে রাখা। কথা অনুযায়ী চীন ভিসা পেয়ে চলে আসলাম চীনে। বিমানে উঠার পরপরই শুরু হল এতদিন কি শিখলাম তার ব্যবহারিক প্রয়োগ। ভাষার মাধ্যম শুধুই ইংরেজি। এবার বর্তমানে নজর দেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যালে বিএসসি করতেছি তাও ইংলিশ মেজর! শুধু একরুমে বন্ধু রাসেল এর সাথে বাংলা ছাড়া সবখানে সকলের সাথে কথা বলার মাধ্যম এখন এটা। বাংলাদেশির ইংরেজি কিনা। এটা সকলেই বুঝতে সক্ষম! বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ কর্নারে বন্ধু আর আমি নিয়মিত আমন্ত্রিত অথিতি। বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীর সাথে হয় বিতর্ক অনুষ্ঠান। বিতর্ক এখন পযর্ন্ত যে পক্ষকে সমর্থন করি হারে না বা হারিনি কখনো। সেই ইংরেজিতে ৩৩ পাওয়া আমিই। একটা ভাষা, একটি দুর্বলতা ততক্ষণ পর্যন্ত ইহা দুর্বলতা যতক্ষণ আপনি তা দুর্বলতা বানিয়ে রাখবেন। আপনার দুর্বলতা খুজুন। বের করেন। তাতে সময় দিন। আপনি সেটাতে সফল হবেনই। আপনার ইচ্ছা আগ্রহদীপ্ত মনোবল আপনাকে সামনে এগিয়ে দিবে। কষ্ট করে পুরোটা পড়ার জন্য কৃতজ্ঞ আপনার প্রতি। ধন্যবাদ।

Related posts

খাদ্যের মতো রাজনীতিতেও ভেজাল ঢুকে পড়েছে: নাসিম

Ashish Mallick

ওয়াজে ধর্মনাশের আওয়াজ

Amith Santosh

মিডফোর্ডে বিভিন্ন দোকানে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এর অভিযান

Rashed Hossen

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.