আলোড়ন নিউজ
Lead News ধর্ম

শিব নটরাজ শম্ভু যোগীশ্বর ইত্যাদির প্রিয় নগরী!!

’উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক: শিবকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে। অন্য সকল দেবতার মত তারও ১০৮ নাম রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল- হাদেব, শিব, নটরাজ, শম্ভু, পশুপতি, নীলকন্ঠ, চিন্তামণি, মহেশ্বর, সতীপতি, ত্রিপুরারি, তীর্থরাজ, যোগীশ্বর ইত্যাদি। গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণকালে শিব তাঁকে জটায় ধারণ করছেন; সম্মুখে পার্বতী, নন্দী ও ভগীরথ তৃতীয় নয়ন: শিবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল তাঁর তৃতীয় নয়ন। এই নয়ন দ্বারা শিব কামকে ভস্ম করেছিলেন।

বিভিন্ন শাস্ত্র গ্রন্থে শিবের যে ত্র্যম্বকম্ নামটি পাওয়া যায় তার প্রকৃত অর্থ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে অনেক । ধ্রুপদি সংস্কৃতে অম্বক শব্দের অর্থ চক্ষু; আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায় জানান, মহাভারতে শিবকে ত্রিনয়ন রূপে কল্পনা করা হয়েছে; তাই উক্ত নামটির আক্ষরিক অর্থ করা হয়ে থাকে “তৃতীয় নয়নধারী”।যদিও বৈদিক সংস্কৃতে অম্বা বা অম্বিকা শব্দের অর্থ মা; এই প্রাচীন অর্থের ভিত্তিতে ত্র্যম্বকম্ নামটির আক্ষরিক অর্থ করা হয়, তিন জননীর সন্তান। তবে শিবের তিন জননী সংক্রান্ত কোনো কাহিনির প্রচলন নেই।বরং অম্বিকা নামে পরিচিত তিন মাতৃদেবীর সঙ্গে এটি সম্পর্কযুক্ত।শব্দটির অন্য একটি অর্থ করা হয় “যাঁর তিন স্ত্রী বা ভগিনী বর্তমান”।

কেউ কেউ মনে করেন, শব্দটি এসেছে রুদ্রের সঙ্গে শিবের সমত্বারোপের ফলস্রুতিতে। কারণ রুদ্রের সঙ্গে দেবী অম্বিকার একটি সম্পর্ক রয়েছে। অর্ধচন্দ্র: শিবের মস্তকে একটি অর্ধচন্দ্র বিরাজ করে।এই কারণে শিবের অপর নাম চন্দ্রশেখর রুদ্রের রুদ্র-শিব রূপে বিবর্তনের প্রথম যুগ থেকেই এই অর্ধচন্দ্র শিবের একটি বৈশিষ্ট্য।সম্ভবত বৈদিক ও পরবর্তীকালের সাহিত্যে চন্দ্রদেবতা সোম ও রুদ্রের একীভবনের স‚ত্রেই শিবের এই বৈশিষ্ট্যটির উদ্ভব ঘটেছিল। বিভ‚তি: শিব তাঁর সর্বাঙ্গে বিভ‚তি বা ভস্ম মাখেন। ভৈরব ইত্যাদি শিবের কয়েকটি রূপ প্রাচীন ভারতীয় শ্মশান বৈরাগ্য দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্যবাদের সঙ্গে সম্পর্কহীন কয়েকটি গোষ্ঠী এই মত অনুযায়ী ধর্মসাধনা করেন।থেরবাথ বৌদ্ধ ধরমে পালি ধমর্ গ্রন্থ ও এই শ্মশান সাধনার উলে­খ রয়েছে।এই কারণে শিবের অপর নাম শ্মশানবাসী স্থানীয়ভাবে অকার্যকর সংযোগ ও বিভ‚তিভ‚ষণ। জটাজুট: শিবের মস্তকের কেশরাশি জটাবদ্ধ।

এই কারণে শিবের অপর নাম জটী বা কপর্দী (কপর্দ বা কাড়ির ন্যায় কেশযুক্ত)। নীলকণ্ঠ: একবার দেবতা আর অসুর মধ্যে যুদ্ধে অমৃত পানের জন্যে দেবতারা সমুদ্রমš’ন করছিলেন। মš’নকালের এক পর্যায়ে সম্রুদ থেকে হলাহল বিষ উত্থিত হলে তার বিষাক্ত নির্যাষে দেবতারা অজ্ঞান হয়ে যা”িছলেন। তখন দেবতাদের রক্ষা করার জন্য ভগবান শিব সেই বিষাক্ত বিষ পান করেন। এর ফলে উনার কন্ঠ নীল হয়ে যায়।একারনেই ভগবান শিব নীলকণ্ঠ নামে পরিচিত হন। গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণকালে শিব তাঁকে জটায় ধারণ করছেন. পবিত্র গঙ্গা: হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, গঙ্গা নদীর উৎস শিবের জটা।এই কারণে শিবের অপর নাম গঙ্গাধর। ব্যাঘ্রচর্ম: শিবের পরিধেয় বস্ত্র ব্যাঘ্রচর্ম বা বাঘছাল। এই কারণে শিবের অপর নাম কৃত্তিবাস।শিব ব্যাঘ্রচর্মের আসনের উপর উপবিষ্টও থাকেন। উলে­খ্য, ব্যাঘ্রচর্মের আসন ছিল প্রাচীন ভারতের ব্রহ্মর্ষিদের জন্য রক্ষিত একটি বিশেষ সম্মান। সর্প: শিবের গলায় একটি সাপ সর্বদা শোভা পায়। ত্রিশুল: শিবের অস্ত্র হল ত্রিশুল। ডমরু: শিবের হাতে ডমরু নামে একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র শোভা পায়।নটরাজ নামে পরিচিত শিবে নৃত্যরত ম‚র্তির এটি একটি বিশিষ্ট দিক।ডমরুধারণের জন্য নির্দিষ্ট একটি মুদ্রা বা হস্তভঙ্গিমা ডমরুহস্ত নামে পরিচিত। ডমরু কাপালিক স¤প্রদায়ের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। নন্দী: নন্দী নামে একটি পৌরাণিক ষাঁড় শিবের বাহন।শিবকে পশুদের দেবতা মনে করা হয়।

তাই তাঁর অপর নাম পশুপতি আর. কে. শর্মার মতে, পশুপতি শব্দটির অর্থ “গবাদি পশুর দেবতা। অন্যদিকে ক্র্যামরিক এই নামটিকে প্রাচীন রুদ্রের অভিধা আখ্যা দিয়ে এর অর্থ করেছেন “পশুদের দেবতা”। গণ: শিবের অনুচরদের গণ বলা হয়। এঁদের নিবাসও কৈলাস। এঁদের ভৌতিক প্রকৃতি অনুসারে ভ‚তগণ নামেও অভিহিত করা হয়। এঁরা সাধারণত দয়ালু। কেবল কোনো কারণে তাঁদের প্রভু ক্রুদ্ধ হলে এঁরা প্রভুর সঙ্গে ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠেন। শিব স্বীগয় পুত্র গণেশকে তাঁদের নেতা মনোনীত করেন। এই কারণেই গণেশ গণপতি নামে অভিহিত হন। কলাস: হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের অধিষ্ঠান হিমালয়ের কৈলাস পর্বতে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, লিঙ্গাকার কৈলাস পর্বত মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত। বারাণসী: বারাণসী শিবের প্রিয় নগরী। এই নগরী হিন্দুদের পবিত্রতম তীর্থগুলির অন্যতম। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ এই নগরী কাশীধাম নামে পরিচিত। সংগৃহীত-শিব
শিব নটরাজ শম্ভু যোগীশ্বর ইত্যাদির প্রিয় নগরী!!!
’উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক: (১২,সেপ্টেম্বর) ২৭৪: শিবকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে। অন্য সকল দেবতার মত তারও ১০৮ নাম রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল- হাদেব, শিব, নটরাজ, শম্ভু, পশুপতি, নীলকন্ঠ, চিন্তামণি, মহেশ্বর, সতীপতি, ত্রিপুরারি, তীর্থরাজ, যোগীশ্বর ইত্যাদি। গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণকালে শিব তাঁকে জটায় ধারণ করছেন; সম্মুখে পার্বতী, নন্দী ও ভগীরথ তৃতীয় নয়ন: শিবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল তাঁর তৃতীয় নয়ন। এই নয়ন দ্বারা শিব কামকে ভস্ম করেছিলেন।বিভিন্ন শাস্ত্র গ্রন্থ শিবের যে ত্র্যম্বকম্ নামটি পাওয়া যায় তার প্রকৃত অর্থ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে অনেক । ধ্রুপদি সংস্কৃতে অম্বক শব্দের অর্থ চক্ষু; আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায় জানান, মহাভারতে শিবকে ত্রিনয়ন রূপে কল্পনা করা হয়েছে; তাই উক্ত নামটির আক্ষরিক অর্থ করা হয়ে থাকে “তৃতীয় নয়নধারী”।যদিও বৈদিক সংস্কৃতে অম্বা বা অম্বিকা শব্দের অর্থ মা; এই প্রাচীন অর্থের ভিত্তিতে ত্র্যম্বকম্ নামটির আক্ষরিক অর্থ করা হয়, তিন জননীর সন্তান। তবে শিবের তিন জননী সংক্রান্ত কোনো কাহিনির প্রচলন নেই।বরং অম্বিকা নামে পরিচিত তিন মাতৃদেবীর সঙ্গে এটি সম্পর্কযুক্ত।শব্দটির অন্য একটি অর্থ করা হয় “যাঁর তিন স্ত্রী বা ভগিনী বর্তমান”। কেউ কেউ মনে করেন, শব্দটি এসেছে রুদ্রের সঙ্গে শিবের সমত্বারোপের ফলস্রুতিতে।

কারণ রুদ্রের সঙ্গে দেবী অম্বিকার একটি সম্পর্ক রয়েছে। অর্ধচন্দ্র: শিবের মস্তকে একটি অর্ধচন্দ্র বিরাজ করে।এই কারণে শিবের অপর নাম চন্দ্রশেখর রুদ্রের রুদ্র-শিব রূপে বিবর্তনের প্রথম যুগ থেকেই এই অর্ধচন্দ্র শিবের একটি বৈশিষ্ট্য।সম্ভবত বৈদিক ও পরবর্তীকালের সাহিত্যে চন্দ্রদেবতা সোম ও রুদ্রের একীভবনের সূত্রেই শিবের এই বৈশিষ্ট্যটির উদ্ভব ঘটেছিল। বিভূতি: শিব তাঁর সর্বাঙ্গে বিভ‚তি বা ভস্ম মাখেন। ভৈরব ইত্যাদি শিবের কয়েকটি রূপ প্রাচীন ভারতীয় শ্মশান বৈরাগ্য দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্যবাদের সঙ্গে সম্পর্কহীন কয়েকটি গোষ্ঠী এই মত অনুযায়ী ধর্মসাধনা করেন।থেরবাথ বৌদ্ধ ধরমে পালি ধমর্ গ্রন্থ ও এই শ্মশান সাধনার উলে­খ রয়েছে।এই কারণে শিবের অপর নাম শ্মশানবাসী স্থানীয়ভাবে অকার্যকর সংযোগ ও বিভূতিভূষণ। জটাজুট: শিবের মস্তকের কেশরাশি জটাবদ্ধ। এই কারণে শিবের অপর নাম জটী বা কপর্দী (কপর্দ বা কাড়ির ন্যায় কেশযুক্ত)। নীলকণ্ঠ: একবার দেবতা আর অসুর মধ্যে যুদ্ধে অমৃত পানের জন্যে দেবতারা সমুদ্রমš’ন করছিলেন। মš’নকালের এক পর্যায়ে সম্রুদ থেকে হলাহল বিষ উত্থিত হলে তার বিষাক্ত নির্যাষে দেবতারা অজ্ঞান হয়ে যা”িছলেন। তখন দেবতাদের রক্ষা করার জন্য ভগবান শিব সেই বিষাক্ত বিষ পান করেন। এর ফলে উনার কন্ঠ নীল হয়ে যায়।একারনেই ভগবান শিব নীলকণ্ঠ নামে পরিচিত হন। গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণকালে শিব তাঁকে জটায় ধারণ করছেন. পবিত্র গঙ্গা: হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, গঙ্গা নদীর উৎস শিবের জটা।এই কারণে শিবের অপর নাম গঙ্গাধর। ব্যাঘ্রচর্ম: শিবের পরিধেয় বস্ত্র ব্যাঘ্রচর্ম বা বাঘছাল।

এই কারণে শিবের অপর নাম কৃত্তিবাস।শিব ব্যাঘ্রচর্মের আসনের উপর উপবিষ্টও থাকেন। উলে­খ্য, ব্যাঘ্রচর্মের আসন ছিল প্রাচীন ভারতের ব্রহ্মর্ষিদের জন্য রক্ষিত একটি বিশেষ সম্মান। সর্প: শিবের গলায় একটি সাপ সর্বদা শোভা পায়। ত্রিশুল: শিবের অস্ত্র হল ত্রিশুল। ডমরু: শিবের হাতে ডমরু নামে একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র শোভা পায়।নটরাজ নামে পরিচিত শিবে নৃত্যরত ম‚র্তির এটি একটি বিশিষ্ট দিক।ডমরুধারণের জন্য নির্দিষ্ট একটি মুদ্রা বা হস্তভঙ্গিমা ডমরুহস্ত নামে পরিচিত। ডমরু কাপালিক স¤প্রদায়ের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। নন্দী: নন্দী নামে একটি পৌরাণিক ষাঁড় শিবের বাহন।শিবকে পশুদের দেবতা মনে করা হয়। তাই তাঁর অপর নাম পশুপতি আর. কে. শর্মার মতে, পশুপতি শব্দটির অর্থ “গবাদি পশুর দেবতা। অন্যদিকে ক্র্যামরিক এই নামটিকে প্রাচীন রুদ্রের অভিধা আখ্যা দিয়ে এর অর্থ করেছেন “পশুদের দেবতা”। গণ: শিবের অনুচরদের গণ বলা হয়। এঁদের নিবাসও কৈলাস।

এঁদের ভৌতিক প্রকৃতি অনুসারে ভ‚তগণ নামেও অভিহিত করা হয়। এঁরা সাধারণত দয়ালু। কেবল কোনো কারণে তাঁদের প্রভু ক্রুদ্ধ হলে এঁরা প্রভুর সঙ্গে ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠেন। শিব স্বীগয় পুত্র গণেশকে তাঁদের নেতা মনোনীত করেন। এই কারণেই গণেশ গণপতি নামে অভিহিত হন। কলাস: হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের অধিষ্ঠান হিমালয়ের কৈলাস পর্বতে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, লিঙ্গাকার কৈলাস পর্বত মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত। বারাণসী: বারাণসী শিবের প্রিয় নগরী। এই নগরী হিন্দুদের পবিত্রতম তীর্থগুলির অন্যতম। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ এই নগরী কাশীধাম নামে পরিচিত।

 

Related posts

যুক্তরাষ্টের তিন কূটনৈতিককে আটক করল রাশিয়া

Ashish Mallick

ফরিদগঞ্জে অটিজম ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

Ashish Mallick

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত ৩ দিনের কর্মসূচি: কাদের

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.