আলোড়ন নিউজ
Lead News শিক্ষা

রাবি’র উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মারুফ হাসান, রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং উপ-উপাচার্যের নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে এনে তাদের অপসারণ দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক সমাজের একাংশ।

ভুতত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান টিপু লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৯.১১.২০১৯ তারিখে দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকা ও সিল্কসিটি ডটকম পত্রিকা ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় :টাকা হরিলুট ও অনিয়ম, তদন্তে দুদক এবং ‘রাবি ভিসির মেয়ে-জামাতা নিয়োগ, অর্থ লুটপাট ও অনিয়মের তদন্তে দুদক’’ শিরোনমে এবং ২০.১১.১৯ তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় অনুরুপ সংবাদ আমাদের দৃষ্টি আর্কষন করেছে। এমন সংবাদে আমরা লজ্জিত ও মর্মাহত। উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সোবহান এর প্রথম মেয়াদের অজস্র অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা সবার মুখে মুখে রয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরে ৪৭৫ তম সিন্ডিকেটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালার ব্যাপক পরিবর্তন করে নিজের মেয়ের এবং জামাইকে ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং আইবিএ তে নিয়োগ দিয়েছেন। এতে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাকে নিম্নপর্যায়ে নিচে নামিয়েছে। পূর্বের নীতিমালায় আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা ছিল সনাতন পদ্ধতিতে ৪টি পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি বা গ্রেডিং পদ্ধতিতে এসএসসি এবং এইসএসসি তে নূন্যতম ৪.৫ এবং সম্মান এবং স্নাতোকোত্তর পর্যায়ে নূন্যতম ৩.৫।

তাছাড়াও ৮ টি বিভাগে ২৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন যাদের আগের নীতিমালায় আবেদন করার ও যোগ্যতাই ছিল না। স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক এডহক নিয়োগ দিয়েছেন যারা প্রকৃতঅর্থে অযোগ্য নিকটাত্মীয়। তদুপরি সম্মান এবং স্নাতোকোত্তর পর্যায়ে মেধা তালিকায় ১ম হতে ৭তম ¯’ানের মধ্যে থাকতে হবে। কিš‘ তার কন্যা ও জামায়ের মধোতালিকা যথাক্রমে ছিলো ২১তম এবং ৬৭তম। শুধুমাত্র নিজের পরিবাওে স্বার্থ বিবেচনা কওে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নিয়মনীতি ভূলুন্ঠিত করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্টভাবে সরকারের বর্তমান অভিন্ন নিয়োগমালার চরম লঙ্ঘন ও বড় ধরনের দুর্নীতি।

৪৮১তম সিন্ডিকেটে সেকশন অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সবো”র্চ বয়সসীমা উঠিয়ে দিয়েছেন।
৪৮৮তম সিন্ডিকেটে সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারি নিয়োগ নীতিমালার পরিবর্তন কওে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ বছর করেছেন।নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ও বিধি মোতাবেক বোর্ড গঠন না করে নিকট আত্ময়সহ অর্ধশতাধিক এডহক ও মাস্টাররোল নিয়োগ দিয়েছেন। এসব অন্যায় এবং স্বজনপ্রীতি করেছেন। উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও মহামান্য আচার্জের অনুমতি ছাড়াই ২১.০৬.২০১৭ তারিখে অবসরে যান। কিš‘ ২৪.০৬.২০১৭ তারিখে অবসরে যেতে চান বলে আবেদন করেছিলেন।

উপাচার্যের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের সহকর্মী হিসেবে বর্তমান দুই উপ-উপাচার্য যারা এসব অন্যায়ের কোন প্রতিবাদ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান দুঃশাসন ও দুর্নীতির প্রধান পরামর্শদাতা হ”েছন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল বারী ও প্রফেসর জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের এ্যাক্ট ভঙ্গ কওে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আইন বিভাগের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে ওই বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে বিভাগের শিক্ষকগণ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত ওই সভাপতিকে বেআইনী ও নিয়মবহির্ভূত বলে পূর্বের সভাপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সাত পুকুর খনন ও সংস্কারের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাঝপথেই বাতিল করে দেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শিক্ষকদের স্মরণে নির্মাণাধীন স্মৃতিফলকের কাজ বন্ধ রাখেন ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছেন। আবার উপাচার্যের অনুমোদনে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের নামে প্যারিস রোডসহ বিভিন্ন রাস্তায় অপরিকল্পিতভাবে ঘাস লাগায় এবং সেই ঘাস উঠিয়ে ফুটপাত তৈরী করে সরকারি অর্থের অপচয় ও লোপাট করছেন।

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার স্ত্রীর ভাগনে, নিয়োগ বাণিজ্যের কথিত আদায়কারী সাখাওয়াত হোসেন টুটুলের স্ত্রী ও পরিবহণের প্রশাসক এফ এম আলী হায়দারের স্ত্রীকে স্কুলের শিক্ষক এবং ক্যাফেটেরিয়ার প্রশাসক মো. সিরাজুল স্ত্রীকে মহিলা হলের আবাসিক শিক্ষক পদে যোগ্য প্রার্থীদের বি ত করে নিয়োগ দেন। এছাড়া যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনরুপ শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাহীন সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উপাচার্যের বন্ধু প্রফেসর আব্দুল মজিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক যোগ্য লোক থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৩ এর অ্যাক্ট ভঙ্গ করে করে আইন ও ভুমি প্রশাসন বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উক্ত বিভাগে নিয়োগ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে আইন বিভাগের ড. মো. রফিকুল ইসলামকে আইন ও ভূমি বিভাগের সভাপতি নিয়োগ কারায় বিভাগের শিক্ষকগণ আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালত নিয়োগকে বেআইনী বলে পূর্বের সভাপতিকে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে ও একই ঘটনা ঘটেছে।
কিছুদিন আগে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া এর শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের চুক্তির অডিও রেকর্ড ফাস হয়।

Related posts

বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক আটক

Nurul Alam

গণতন্ত্রকে সুষ্ঠু রাখতে হলে স্বাধীন গণমাধ্যম দরকার : ফখরুল

Ashish Mallick

নড়াইলে স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে রাস্তার সংস্কারকাজ

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.