আলোড়ন নিউজ
মুক্তমত Lead News

নির্বাচন পেছালে কি এমন ক্ষতি?

শিতাংশু গুহ, ১৫ জানুয়ারি ২০২০, নিউইয়র্ক।। ৩০জানুয়ারি ঢাকায় দু’টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি দু’দিন সরস্বতী পূজা। নির্বাচনের সাথে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সংঘাত। প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন, তাঁরা কি তখন এসব দেখেন না? নাকি হিন্দুদের অনুষ্ঠান বলে পাত্তা দেন না? এবারই প্রথম নয়, মাত্র সেদিন রংপুর-৩ আসনের নির্বাচন হয়েছে দুর্গাপূজার দিন? তখনও মৃদু আপত্তি উঠেছিলো, এবারের মত সাড়া মেলেনি।

সরস্বতী পূজা মুখ্যত: বিদ্যার্থীদের। ছাত্ররা তাই আন্দোলন করছে। শাহবাগ আবার জেগে উঠছে। নির্বাচন কমিশন কি করবেন? সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন না ছাত্রদের দাবি মেনে নির্বাচনটা একটু এগিয়ে বা পিছিয়ে দেবেন। তাতে কি এমন ‘মহাভারত’ অশুদ্ধ হয়ে যাবে? কমিশনের মান-ইজ্জতের ব্যাপার? ওটা আগেও ছিলোনা, এখনো নেই! আপনারা নির্বাচন তো ঠিকমত করতে পারেন না, অন্তত: ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে একটি ‘ভাল’ কাজ করুন?

কমিশন বলেছেন, পূজা ও ভোট দু’টো-ই পবিত্র কাজ, একসঙ্গে অনুষ্ঠানে সমস্যা নেই। ঈদে-মিলাদুন্নবী বা শবেবরাতের দিন পবিত্র। পারবেন, নির্বাচন দিতে? পারবেন না, তাই অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় নির্বাচন দেবেন কেন? অন্যরা দুর্বল, অন্যদের খুঁটির জোর নেই? কাউকে খুশি করতে চাচ্ছেন? বা অন্য কোন দুরভিসন্ধি আছে? কিচ্ছুতে কাজ হবেনা। আমার ধারণা, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কমিশনের ‘ঠুনকো’ জেদ ভেঙ্গে দেবে, নির্বাচন পেছাবে।

আন্দলোনরত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের’ যুগান্তকারী ভূমিকা সবার জানা। শিক্ষার্থীদের এবারকার আন্দোলন এরই ধারাবাহিকতা। গর্ব হয় আমরাও ঢাকা ভার্সিটি’র ছাত্র ছিলাম। আবার লজ্জা হয় যখন দেখি, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজের ছোট্ট ছোট্ট ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে রাজনীতি করছে! নির্বাচন কমিশনের অনেক ব্যর্থতার সাথে এটি নুতন সংযোজন।

পূজা মানে উৎসব। নির্বাচনও উৎসব। দু’টি উৎসব একই দিনে ব্যাপারটা বেমানান। এ ছাড়া একটি ধর্মীয় উৎসব, অন্যটি রাষ্ট্রীয় বা অধিকার ও দায়িত্ব পালনের উৎসব, একটু তফাৎ আছে বৈকি। তাই একটি উৎসব আগে-পিছে করা দরকার। পূজার সময় নির্ঘন্ট তো আর বদল করা যাবেনা, সুতরাং নির্বাচনের দিন পাল্টানো হোক। কথায় বলে, ‘সেই তো মল খসালি, তবে কেন লোক হাসালি’ পর্যায়ে যাওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনের সুবুদ্ধি’র উদয় হোক!

শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। প্রতিদিন তা জমে উঠছে। কিন্তু যাদের এই আন্দোলনে সহযোগিতা করার কথা তাঁদের দেখা যাচ্ছেনা। ক’দিন আগে ভারতবর্ষ জুড়ে আমরা দেখলাম, সংখ্যালঘু’র আন্দোলনে সংখ্যাগুরুরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে তেমন দৃশ্য এখনো দেখা যায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ কথা বলছেন, প্রার্থীরাও টুকটাক নড়াচড়া করছেন। সবাই হয়তো ‘অনুকূল হাওয়া’র অপেক্ষায় আছেন, সিগন্যাল মিললে ঝাঁপিয়ে পড়বেন?

আজকাল মিডিয়ায় প্রায়শ: ‘ধর্মীয় অনুভূতি’-তে আঘাত দেয়ার অপরাধে গ্রেফতারের সংবাদ দেখতে পাওয়া যায়। পূজার দিনে ভোট ঘটনাকে কেউ কেউ ‘ধর্মীয় অনুভূতি’-তে আঘাত বলতে চাইছেন। প্রশ্ন হলো ইসি কি এটি ইচ্ছা করে করেছেন না অনিচ্ছাকৃত? পরপর দু’বার একই ঘটনা যদি ‘ইচ্ছাকৃত’ নাও হয়, তবে চরম দায়িত্বহীনতা বটে। হয়তো এ কারণে ইসি’র প্রতি মানুষের আস্থা নেই? তাই কিছুটা হলেও ‘আস্থা বাড়ানোর’ এই সুযোগ হেলায় হারানো ঠিক হবেনা?  # guhasb@gmail.com;

Related posts

ঈদ শেষে কর্মফেরৎ যাত্রীসেবায় বরিশাল জেলা রোভার

Ashish Mallick

করোনা ভাইরাসে ইরানে মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে

Ashish Mallick

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.