আলোড়ন নিউজ
Lead News সারাদেশ

কুয়েতে থাকা প্রবাসী, রংপুরের এসপিকে ফোন দিতে না দিতেই খাদ্য সামগ্রী পৌঁছায় দিল বাড়িতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরের এসপিকে কুয়েত থেকে এক প্রবাসী ফোন দেওয়া দেরি, মূহুর্তেই খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে গেল বাড়ি আর এমনটাই ঘটেছে পীরগাছা থানাধীন অনন্তরাম সরকারটারীতে ।

হঠাৎ কুয়েত থেকে এক ভদ্রলোক ফোন দিয়ে বলে, আপনি কী রংপুরের এসপি বলছেন? দেশীয় গণমাধ্যমে খবর পেয়েছি  রংপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আপনার মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। সামাজিক মর্যাদা, লোকলজ্জা ও আত্মসম্মানের ভয়ে কারও কাছে হাত পাততে না পেরে আমি ফোন দিলাম আপনার কাছে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়ে নিরুপায় হয়ে পুলিশ সুপার, রংপুর (এসপি)কে ফোনে সমস্যার কথা বলেন। কিছু সময় পর পুলিশ সুপার (এসপি) ওসি পীরগাছাকে বলেই তার পরিবারের জন্য ঘরে খাবার পৌঁছে দেন।

প্রবাসীর দেয়া ফোন পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিক তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিমকে ফোন দিয়ে ওই প্রবাসির বাড়িতে বাজার করে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।তালিকা অনুযায়ী টানা ১৫ দিনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে ছিল-চাল, ডাল, আলু, তেল, পেঁয়াজ, আদা, মরিচ, রসুন, কাঁচাবাজারসহ আরও অনেক কিছু।

জানা যায়, পীরগাছা থানাধীন অনন্তরাম সরকারটারী গ্রামের মোছাঃ নাজমুন নাহার নাজু তিন মাস যাবত কুয়েত প্রবাসী।বৈশ্বিক এই মহামারীতে গত ৩ মাস যাবত তিনি কুয়েতে বেকার জীবন যাপন করছেন। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে টাকা পাঠাতে না পাড়ায় তারা একরকম না খেয়ে দিনযাপন করতেছে। বাড়িতে তার মেয়ে, ছেলে, বৃদ্ধ মা, এবং জামাতা থাকেন। হঠাৎ ঘরের বাজার শেষ। কিন্তু করোনার কারণে ঘর থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকায় পরিবারের কেউ বাজারে যেতে পারছেন না। নিরুপায় হয়ে কুয়েত থেকে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম (বার) পিপিএম কে ফোন দিয়ে সমস্যার কথা বলেন।

এ নিয়ে রংপুরের এসপি বিপ্লব কুমার সরকার আলোড়ন নিউজকে বলেন, মুঠোফোনে সকালে এক কুয়েত প্রবাসী ফোন দিয়ে জানান, তিনি তিনমাস ধরে প্রবাসে থাকেন। তিনি সচেতন তাই পরিবারের সদস্যদের ঘরের বাইরের যেতে দিচ্ছেন না।বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছেন পুলিশ খাবার পৌঁছে দিচ্ছে, যার জন্য আশা নিয়ে আমাকে ফোন দিয়েছে। আমিও তাৎক্ষনিক কোন কোন খাবার সংকট তা জেনে তার খাদ্য পণ্যের লিস্ট অনুযায়ী ওইসব পণ্য কিনে তার বাসায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।এছাড়া প্রয়োজনে আরও খাবারসামগ্রী দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করি।

তিনি আরো বলেন, রংপর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকার অসহায় মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি। করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে আমার নম্বর দেয়া আছে। যারা লোকলজ্জার ভয়ে জনসম্মুখ থেকে নিতে পারছেন না, আমরা গোপনে তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। তাছাড়া হোম কায়ারেন্টাইনে থাকা মানুষদের বাসায় বাসায় গিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার দেয়া হচ্ছে।এর বাইরেও যেসব মানুষ আমাদের রংপুর জেলা পুলিশ আওতাধীন থানার কোন নম্বরে ফোন দিচ্ছেন,  আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। এই মূহুর্তে মানুষকে ঘরের মধ্যে রাখাটা হলো আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক যা যা করা দরকার, ঠিক তা তা করছি আমাদের অবস্থান থেকে।

Related posts

দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান

Ashish Mallick

আইএসের অন্তঃসত্ত্বা সালমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা

Ashish Mallick

প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষের সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে: ওবায়দুল কাদের

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.