আলোড়ন নিউজ
Lead News সারাদেশ

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশীর নাম ও ঠিকানা জানা গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিবিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যের পরিবারের লোকজন।মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৪ বাংলাদেশির নামও ঠিকানা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৮ জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। তাদের গৃহে নেমে আসে শোকের মাতম, কান্না আহাজারী ও আত্মচিৎকার। এছাড়া পাচারকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীর। নিহতদের লাশ দেশে আনার ও  দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা।

পরিবারের অস্বচ্ছলতা দূরীকরণের লক্ষে লিবিয়ায় পাড়ি জমান কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন আকাশ। কিন্তু স্বপ্নটা আর সত্যি হলো না। পাচারকারীদের গুলিতে প্রাণ গেলো তার। পরিবারের সবচেয়ে আদরের ছোট সন্তান বলে এমন খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে বাবা-মা দুইজনেই।

স্বজনরা জানান, লিবিয়ায় একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করার সময় আকাশের সঙ্গে পরিচয় হয় ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের দালাল তানজিমুলের সঙ্গে। ওই দালালের মাধ্যমে আকাশসহ ৩৮ বাংলাদেশি ইটালির পথে রওয়ান হন। ১৫ দিন আগে লিবিয়ার বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ত্রিপলী নেয়া হচ্ছিল তাদের। পথে মিজদাহ শহরে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সবাইকে জিম্মি করে মানবপাচারকারী এক চক্র। জিম্মি অবস্থায় তাদেরকে অত্যাচার, নির্যাতন করার এক পর্যায়ে অভিবাসীদের হাতে এক পাচারকারীর সদস্য মারা যায়। এরই জের ধরে অভিবাসীদের দিকে বৃহস্পতিবার এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। এতে ঘটনাস্থলেই আকাশসহ ২৬ বাংলাদেশি মারা যান।

একই ঘটনায় নিহত ভৈরবের সোহাগ মিয়া, মাহবুব হোসেন, সাকিব মিয়া, মামুন মিয়া, মোহাম্মদ আলী, জানুমিয়াসহ ৭ জনের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সুখের জন্য জমি বিক্রি ও ঋণ করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সব স্বপ্ন ভেঙে গেলো তাদের পরিবারগুলোর। এখন সন্তানের লাশ দেশে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। পাশাপাশি দাবি জানালের দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির বাকিদের মধ্যে

আসাদুল, আয়নাল, মনির, সজীব,শাহীনের বাড়ি টেকেরহাটে। সুজন ও কামরুলের বাড়ি গোপালগঞ্জে, রহিম হোসেনপুরের, জুয়েল ও মানিক বিদ্যানন্দী, জাকির, জুয়েল, শামীম, সৈয়দুল, ফিরোজ হলো মাদারীপুরের, আরফান ঢাকার, লাল চান্দ নারায়ণপুর,  রাকিবুল যশোরের।

উল্লেখ্য, লিবিয়া দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়  লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজ্দাহ’তে (ত্রিপলী হতে ১৮০ কি.মি. দক্ষিণে) ২৬ জন বাংলাদেশীকে লিবিয়ান মিলিশিয়া কর্তৃক এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ জন প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশী টেলিফোনে দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানান। তিনি একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। সেখান থেকে তিনি দূতাবাসকে এই মর্মে জানান যে, ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা তাদেরকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশী মিজদাহ শহরে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন। জিমি অবস্থায় তাদেরকে অত্যাচার, নির্যাতন করার একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিবর্গ মূল অপহরণকারী লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করে এবং এর জের হিসেবে অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা আকষ্মিকভাবে তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে । আর তাতে ২৬ জন বাংলাদেশী নিহত হয়, যাদের মৃতদেহ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। অবশিষ্ট বাংলাদেশীরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Related posts

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘টোলের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করো’ স্লোগানে উত্তাল শ্রমিকরা

Ashish Mallick

১৭ বছরে ও সম্পন্ন হয়নি বালু নদীর ব্রিজ

Nurul Alam

রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

Prianka

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.