আলোড়ন নিউজ
Lead News শিক্ষা সারাদেশ

সম্প্রতি পিটিয়ে হত্যা করা শিক্ষার্থী হৃদয় পেল জিপিএ ৪.১১, ফলাফল জানার পর মায়ের আহাজারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছেলেকে প্রকৌশলী বানানোর স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বরগুনার চরকলোনী এলাকার দরিদ্র ফিরোজা বেগমের।

নিজে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে আর স্বামী দেলোয়ার হোসেন রিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় করতেন সেটা দিয়েই চলত হৃদয়ের লেখাপড়া। ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্নে বিভোর এই দম্পতি একমাত্র ছেলে মো. সুজন মিয়া হৃদয়কে ভর্তি করিয়েছিলেন বরগুনার টেক্সটাইল অ্যান্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে। দুষ্টুমিতে পটু হৃদয় লেখাপড়াতেও খুব খারাপ ছিল না। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৪.১১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে হৃদয়।

হৃদয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জানতে পেরে ফিরোজা বেগম বলেন, ছেলেটাকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর ইচ্ছা ছিল। আমাদের মতো যাতে কষ্ট করতে না হয় এজন্য শিক্ষিত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার সব শেষ করে দিলো ওরা।

একেতো একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক। তার ওপর সেই হারানো সন্তানের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের খবর। সব মিলিয়ে পাথর বনে গেছেন নিহত হৃদয়ের মা ফিরোজা বেগম।

হৃদয়ের বাবা দেলোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রেজাল্ট দিয়ে কী হবে? আমার বাবাই তো আর নাই।

বরগুনার টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, হৃদয় ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিল না। আবার খুব খারাপও ছিল না। আমাদের প্রত্যাশা ছিল হৃদয় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পেতে পারে। আমাদের ধারণাই সঠিক হয়েছে। সে জিপিএ ৪.১১ পেয়ে এসএসসি পাস করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভালো ফলাফল করার পরও হৃদয়ের জন্য আজ আমাদের অশ্রু ঝরছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এ খারাপ লাগাটা বলে বোঝাতে পারবো না। এ সময় তিনি হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের গুলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর তীরে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বেড়াতে যায় হৃদয়। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ও হৃদয়ের সঙ্গে থাকা এক  বান্ধবীকে উত্যক্তে প্রতিবাদ করায় হৃদয়সহ তার কয়েক বন্ধুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক-কিশোর। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে হৃদয়ের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করে হৃদয়।

এদিকে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামিসহ ইতোমধ্যেই আমরা সাত আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে  তিন আসামির ইতোমধ্যে আদালত পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সাথে হত্যাকান্ডে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

Related posts

রাবিতে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এ্যাথলেটিক্স ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা শুরু

Maruf Hasan

দ্রুত শেষ করা হবে চলমান প্রকল্প : সেতুমন্ত্রী

Ashish Mallick

এবার সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউতে

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.