আলোড়ন নিউজ
Lead News অপরাধ রাজনীতি সারাদেশ

তিন দিন ধরে এনামুল হক এমপিকে স্বামী দাবি করে ফেসবুকে নানান পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে লিজা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হককে স্বামী দাবি করে  লিজা আয়েশা নামের  ফেসবুক আইডি থেকে নানান পোস্ট দিয়েছেন এক নারী। ওই নারীর বাড়ি নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়।

গত ২৯ মে রাত আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত তার সঙ্গে এমপি এনামুলের হকের তোলা ২০টির অধিক ছবি ৪ বারে   ফেসবুকে পোস্ট করেন। যদিওবা এতে কিছু লেখা ছিল না। আর এইসব ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলা শুরু হয়েছে।

একই দিনে রাত ৮ টা ৫৭ মিনিটে ফেসবুকে লিজা লিখেন, এমপি সাহেব আমার husband এই কথাটা যদি কারো কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয় তাঁরা বিয়ের কাগজ দেখতে পারেন।

এরপর আবার ১১ টা ১০ মিনিটে আবার ফেসবুকে তিনি লিখেন,  কাল বিয়ের কাগজ সহ live video দিবো সবাই আমার পাশে থাকুন। কিন্তু লাইভে আসে নি।

ঠিক তার ৩ মিনিট পর ফের ফেসবুকে লিজা আক্তার আয়েশা  লিখেন, অনেকেই মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন ফেসবুকে তাদের উদ্দেশ্যে বলতেসি মৃত্যুর ভয়ে সত্যি আড়াল করবো না আট বছর সংসার করেছি আজ ছবি দিয়েছি।

এক মিনিট পার হতে না হতেই আবারো ফেসবুকে তিনি পোস্ট দেন, এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই দ্বিতীয় বউ আমি।

পরের দিন ৩০ মে বিকেল ২ টা ৪৩ মিনিটে ফেসবুকে লিজা তুলে ধরেন, একজন সংসদ সদস্য অনেক বড় অবস্থানের মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে চাইলেই কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না আমার কথা গুলো যদি মিথ্যা হইতো তাহলে এতক্ষণে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যেতো।।আমি যা কিছু বলছি এবং বলবো সব সত্যিই আপনারা আমাকে বিরক্ত না করে ধৈর্য্য ধরে পাশে থাকুন।।সবার সব প্রশ্নের উত্তর ইনবক্সে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না আমি এইখানে লিখে দিবো এবং live video দিবো আপনারা দেখলেই সব বুঝতে পারবেন এবং জানতে পারবেন ।

একই দিন বিকেল  ৫ টা ১৭ মিনিটে এক বড় স্ট্যাটাস দেন লিজা আক্তার আয়েশা।এতে লিখা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তাঁর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি,আমি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কোন প্রচারণা করার উদ্দেশ্যে কিছু করছি না আমি আওয়ামীলীগকে মনে প্রাণে ভালোবাসি সেই জন্যই মাননীয় সংসদ সদস্য কে বিয়ে করেছি এবং আমি মনে করি তাকে বিয়ে করে আমিও এই আওয়ামীলীগের একটা অংশ হয়েছি,আমি এই দলকে মনে প্রাণে ভালোবাসি, আমি জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি আমি দলের বিপক্ষে যেতে পারি না দলের ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ আমি কখনোই করতে পারি না।। আমি বাংলা দেশের নাগরিক জন নেত্রী আমার মা আমি একটা সাধারণ মেয়ে হিসেবে আমি কি সুবিচারের আশা করতে পারি না??আমি আমার সংসার চাই আমি আমার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জয়ী হতে চাই কোন কুচক্রী মহল আমাকে এইগুলো লিখতে বলে নাই আমি আমার নিজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছি।।সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা এইটাকে দলের বিপক্ষে নিউজ ভাববেন না এবং অপপ্রচার মনে করবেন না।।প্রয়োজনে আমি জন নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো এবং আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইবো।।।আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে সবসময়ই আছেন এবং থাকবেন আমি এইটা বিশ্বাস করি,,মহান নেত্রী একজন ভিক্ষুককে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ছিলেন উনি আমার জন্যেও সুবিচারের ব্যবস্থা করবেন ইনশা আল্লাহ্।

আবার কিছু সময় পর অর্থাৎ ৫ টা ৩৮ মিনিটে ফেসবুকে লিখেন, এমপি মহোদয়ের সাথে আমার বিয়ের কাগজ আপনাদের বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জনের জন্য দেওয়া হলো আপনারা দয়া করে আমাকে নিয়ে মিথ্যা নিউজ এবং অপপ্রচার করবেন না প্লিজ ।

সন্ধ্যা  ৬টা ২ মিনিটে আবারো ফেসবুকে তিনি লিখেন, এইটা কোন রাজনৈতিক ইস্যু নয় এইটা আমার জীবনের গল্প আমার গল্পটা আমি আপনাদের বলবো আপনারা একটু ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন।

ঘন্টাখানেক পর ৭টা ৪ মিনিটে লিজা লিখেন, এমপি সাহেব আমাকে বিয়ে করেছেন কিন্তু আমাকে কখনোই বউ বলে জনগণের সামনে স্বীকৃতি দেন নাই সবসময়ই আমাকে আড়ালে লুকিয়ে রেখেছেন আমি যখন আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছবি সহ ফেসবুকে এসেছি এমপি সাহেব তখন আমার সাংবাদিক ভাইদের বলেছেন উনি আমাকে 24 এপ্রিল ডিভোর্স করেছেন জনগণের কাছে আমার প্রশ্ন লকডাউন চলাকালীন অবস্থাই সকল কাজি অফিস এবং আদালত বন্ধ ছিলো এমপি মহোদয় আমাকে অফিস বন্ধ অবস্থাই ডিভোর্স দিলেন কিভাবে আর এই ডিভোর্স লেটার আমি এখনও পাইলাম না কেন????একজন সংসদ সদস্য যদি এইভাবে মিথ্যা কথা বলেন তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ সুবিচার চাইবো কার কাছে?????

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ২০ মিনিট পার না হতেই তিনি আবারো এক স্ট্যাটাস দেন ৭ টা ২৫ মিনিটে।এতে লেখা ছিল আজ থেকে চারদিন আগে মাননীয় সংসদ সদস্য আমার স্বামী আমাকে এই মিথ্যা আমার স্বাক্ষর জাল করে একটা ডিভোর্স কপি তৈরী করে সেইটা আমাকে দিয়ে বলেছিলেন আমি নাকি তাকে জানুয়ারীর ছয় তারিখে ডিভোর্স করেছি সেই কাগজ উনি পেয়েছেন এই কথা শোনার পর আমি একটা জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি যে স্বামীর সঙ্গে আমার রানিং সংসার চলতিসে আমি তাঁর বাসায় গিয়ে থাকতেসি সে আমার বাসায় এসে থাকতিসে ঈদের চার দিন আগে আমাকে আমার সংসদ সদস্য স্বামী বিকাশ করে ঈদের খরচ পাঠাইতে চেয়ে ছিলেন সেই মেসেজ আমার কাছে এখনও আছে যেখানে আমাদের এতো ভালো রিলেশন সেইখানে আমি তাকে ডিভোর্স দিলাম কিভাবে আর সে আমাকে ডিভোর্স দিলো কিভাবে???আমি মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে জানতে চাই উনি জনগণের সামনে আমাকে সঠিক উত্তর দিবেন আশা করছি।।

গতকাল ৩১ মে রাত ৭ টা ৪১ মিনিটে ফেসবুকে লিজা লিখেন, আমি আমার husband কে ডিভোর্স দেই নাই এবং উনার স্বাক্ষরকৃত কোন ডিভোর্স আমি এখনও পাই নাই আমি সঠিক বিচারের আশায় আপনাদের সামনে নিজেকে তুলে ধরেছি আমি কিছুই চাই না আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই আমি আমার সংসার ফিরে পেতে চাই ।।।একজন সংসদ সদস্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে তাঁর জীবন নিয়ে এইভাবে খেলা করতে পারেন না ।।আমি সমস্ত প্রমাণ সহ গণমাধ্যমে এসেছি উনি কেন আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন আমি মুখ খুললে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দেওয়া হবে উনি কেন সাংবাদিক দের বলছেন আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন আমি কি অপরাধ করেছি আপনারা আমাকে বলেন।।। আমি আমার অধিকার চেয়েছি, আমি বউয়ের মর্যাদা চেয়েছি, মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে বউ হিসেবে স্বীকার করুক মেনে নিক আমি শুধু এইটাই চেয়েছি।।এই চাওয়া গুলো কি আমার অন্যায় হয়েছে আপনারা বলুন আমাকে।।

গতকাল ৩১ মে রাত ৮টা ১৪ মিনিটে আবারো ফেসবুকে পোস্ট দেন, তাতে লেখা ছিল এমপি সাহেবের সাথে আমার পরিচয় হয় 2012 সালে উনি প্রথম আমাকে ভালোবাসি বলেছিলেন আমিও উনার কথাই মুগ্ধ হয়ে উনার প্রেমে পড়ে ছিলাম।। 30/4/13 পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয় উনার বাগমাড়ার নীজ বাসভবনে কিন্তু বিয়ের সময় উনি বলেছিলেন এখন আমাদের বিয়েটা রেজেস্ট্রি করা যাবে না কারণ তাঁর নমিনেশন পাইতে সমস্যা হতে পারে আমার বিয়ের ভিডিও এবং ছবি আমার কাছে আছে কিন্তু রেজেস্ট্রি তখন করা হয়েছিলো না আমি উনার কথা বিশ্বাস করে উনার কথা মেনে নিয়ে এতো বছর সংসার করেছি।।বিয়ের দুই বছর পর 2015 সালে আমি বেবী কনসিভ করি উনি আমাকে বলে নির্বাচনের আগে উনি বাচ্চা নিতে পারবেন না নির্বাচনের পর নিবেন আমি সেইটাও মেনে নিয়ে এমপি সাহেবের ভালো হবে এই চিন্তা করে বাচ্চা নষ্ট করি তারপর এমপি সাহেব আমাকে বললেন তাঁর নমিনেশন পাইতে আর কোন সমস্যা হবে না আমরা এখন আমাদের বিয়ে রেজেস্ট্রি করতে পারবো তখন 11/5/2018 সালে আমারা পুনরায় বিয়ে করে আমাদের বিয়ে রেজেস্ট্রি করি সেই কাগজ আমি আপনাদের দিয়েছি।।আমার জীবনের আট বছর 2012 থেকে 2020 আমি এমপি সাহেবের সাথে কাটিয়েছি তাঁর সাথে সংসার করেছি।।এমপি সাহেব আমাকে বলেছিলেন নির্বাচনের পর উনি আমাকে স্বীকৃতি দিবেন বাচ্চা দিবেন আমি সেই অপেক্ষায় এতোগুলো বছর নীরব ছিলাম।।এখন আমি সুবিচারের আশায় নিজেকে জনগণের সামনে প্রকাশ করেছি।।।

আজ সোমবার (১ মে) ১২ টার দিকে তিনি ফেসবুকে লিখেন, আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেসি আমি থেমে যাই নাই মাননীয় সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন আমি গন মাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দিবেন সব মিলিয়ে আমি মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছি ।।।তবে আমি থেমে নেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন নেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো ।।আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

এ নিয়ে লিজা আক্তার আয়েশা আলোড়ন নিউজের প্রতিনিধিকে মুঠো ফোনে বলেন, ‘‘তার পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতেই বিয়ে হয়েছিল। ২০১৮ সালের ১১ মে আমাদের বিয়ে হয়। ভুয়া কাগজ করে তালাক দেয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘আমি তার (এমপির) বিরুদ্ধে মামলা করতে চাই। এ কারণে শুক্রবার নগরের রাজপাড়া থানায় আমি মামলা করতে গেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার মামলা নেয়নি। তবে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাই। তাকে না পেলে আমি আদালতের আশ্রয় নিব।’’

একই বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে এমপি এনামুল হক জানান, অনেক আগে ওই নারীর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। আইনগতভাবে ডিভোর্সও হয়েছে। কিন্তু নানা সময়ে সে আমাকে ব্লাকমেইল করছে।এখন আবার দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আমাকে নিয়ে নানান সমালোচনা শুরু করছে।সে পরিকল্পিতভাবে সম্মানহানি করছে আমার। যার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Related posts

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে বিলের মধ্যে বাহারী নৌকায় চলছে জুয়ার আসর

Animesh Roy

১৭ নভেম্বর: টিভিতে আজকের খেলা সূচি

Ashish Mallick

কবি শাহীন রেজা রাসেলের ৩৫তম জন্মোউৎসব ২৭ এপ্রিল

Nurul Alam

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.