আলোড়ন নিউজ
Lead News সারাদেশ স্বাস্থ্য

করোনা যুদ্ধের নায়ক ডা. ফেরদৌসকে নিয়ে যত ভ্রান্তি ধারণা আছে তা মুছে ফেলুন অচিরেই : আশীষ মল্লিক

করোনাকালে মানুষের সেবার দেবার মানসিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ছুটে আসা এক বীরের গল্প সত্যিই আমাকেসহ লক্ষাধিক মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। কেন এমন হবে? গল্পটা হওয়ার কথা ছিল অত্যন্ত গৌরবের আর সম্মানের। এমকি গল্পটা হওয়ার কথা ছিল ঢাকার এয়ারপোর্টে আসার সাথে সাথে শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে সম্মানের সহিত ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া। সত্যিকারের গল্পটা এমন হলে ডা. ফেরদৌসের মতো আরো বীর সামনের দিনগুলিতে দেখা যেত । কিন্তু তা হয়নি। বরং হয়েছে এই বীরের নামে নানান ধরনের মিথ্যে অপবাদ ও কুৎসা রটনা। যা আবার প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যমে। আসলে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। তবে সত্যির জয় আবশ্যম্ভাবী বলে চিরন্তন এক বাক্য রয়েছে। ইতিমধ্যে সত্যির উদঘাটন হচ্ছে। তাছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষের কথা ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাতীয় গণমাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মূল কথা হলো প্রথম অবস্থায় একটু হলেও নিরুৎসাহিত হয়েছে এ ধরনের দেশপ্রেমিক তথা করোনা যুদ্ধের নায়ক ডা. ফেরদৌস। আর তা ’ভালো থেকো বাংলাদেশ’ নামে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ, সোশাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হওয়া নায়ক ডা. ফেরদৌস খন্দকার দেশে আসার সময় চলমান যুদ্ধে সম্মুখসারির দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য নিয়ে এসেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।সে মালামালগুলো ট্যাক্সের জন্য আটকিয়ে রেখেছে এয়ারপোর্টে থাকা দায়িত্বশীলরা। কিন্তু কথা হলো মালামালগুলো তো বিক্রির উদ্দেশ্য আনা হয়নি। তবে কেন এত ঘাত প্রতিঘাত পোহাতে হচ্ছে। যার ফলে দেশের মাটিতে পা দিয়ে অন্য এক অভিজ্ঞতা জানান দেন এই বীর। এখনো যারা এই বীরের গল্পটা শুনেন নি, তাদের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হলো গল্পের পুরোটুকু এবং একই সাথে তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার উপযুক্ত প্রমাণও পাঠকের উদ্দেশ্য বিশদ আকারে আলোচনা করা হয়েছে।

ডা. ফেরদৌসের বেদনাদায়ক গল্প:

দেশে আসার জন্য যখন এয়ারক্রফটে চড়ে বসি তখনও ভাবিনি, আমার জন্য এতো লজ্জাজনক তিক্ত অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। যা দেশের মানুষের কাছ থেকে আমার প্রাপ্য ছিল না। এমন কোনো অন্যায়,অপরাধ আমি করিনি। আমি দেশের মন্ত্রী এমপি কিংবা উচ্চপদে আসীন হতে চাইনি। কোভিড-১৯ নিয়ে গত তিনমাস যুক্তরাষ্ট্রে অমানুষিক পরিশ্রম করেছি। দেশেও এসেছি দেশের মানুষের কোনো কাজে নিজেকে লাগানো যায় কিনা সেই উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউ আমার সেবা না চাইলে আমি আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবো। আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ। এই দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমি ডাক্তার হয়েছি। দায়িত্ববোধ থেকেই বার বার দেশে আসি। মানুষের জন্য কাজ করি। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে আসি না। এই দেশ থেকে ডাক্তারি পাশ করে বিদেশ গিয়ে ৯০ শতাংশই দেশে আসেন না। আমার অপরাধ আমি দেশে বার বার আসি। প্লেন থেকে নেমেই জানলাম আমাকে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা উপাধি দেয়া হয়েছে। আরেক খুনি রশিদের খালাতো ভাই বানানো হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, আমি নাকি পলাতক তারেক রহমানকে নিয়মিত টাকা পয়সা দেই। এইসব নিয়ে আসলেই আমি বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাড়ি কুমিল্লা, নামের সাথে খন্দকার আছে। তাই হয়তো মোস্তাক-রশিদ গংদের আত্মীয় উপাধি দেয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলে হয়তো গোলাম আযমের আত্মীয় বানানো হতো। গোপালগঞ্জ বাড়ি হলে হয়তো বলতো আমি মুফতি হান্নানের আত্মীয়। যারা এইসব অপবাদ দিচ্ছেন জানিনা তাদের আমি কি ক্ষতি করেছি। আমি যা না আমারে তা বানিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আমি যা ছিলাম তা বলছেন না কেন আপনারা ? ১৯৯১ সালের পর চট্যগ্রাম মেডিকেলে শিবির ছাত্রদলের তোপের মুখে ছাত্রলীগের শ্লোগান দিয়েছি। শিবিরের মা’র খেয়ে ক্যাম্পাসও ছাড়তে হয়েছিল । শিবিরের সাথে যুদ্ধ করে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পুনর্প্রতিষ্ঠিতও করেছি। এই বিষয়ে তথ্য নেয়া খুব সহজ। আপনারা চাইলেই খবর নিতে পারেন। আমরা যখন শিবিরের বিরুদ্ধে ফাইট করেছি তখন আজকের সমালোচকরা কই ছিলেন আমার জানা নাই। বেশি কথা বলতে চাই না। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। আমার সম্পর্কে যদি এই অপবাদের একটাও প্রমাণ করতে পারে তাহলে যে শাস্তি দিবে আমি তা মাথা পেতে নেবো।আর যারা অপবাদ দিচ্ছেন তাদের প্রতি কোনো অনুরোধ কিংবা অভিযোগ নাই। শুধু এই টুকু বলবো, নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। আমার সম্মানহানির এই অপচেষ্টার জন্য রোজ হাশরের ময়দানে আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। নিয়তির বিচার অনেক কঠিন। এটা কাউকেই ছাড়বে না।


ডা. ফেরদৌসকে নিয়ে ভ্রান্তি ধারণার সুস্পষ্ঠ তথ্য

ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই এবং খুনি মোশতাকের ভাগিনা এ তথ্যটি সঠিক নয়।

কর্নেল রশীদ -এর পিতা মরহুম আবদুল করিম খন্দকার। করিম মাষ্টার নামেও সমধিক পরিচিত। গ্রাম ও পোঃ ছয়ঘরিয়া, উপজেলা -চান্দিনা, জেলা -কুমিল্লা।

তার মামার বাড়ি – তুলাতুলি (ছয়ঘরিয়া সংলগ্ন পশ্চিম পাশে।) থানা, জেলা একই। তার নানার নাম ছিল জব্বর আলী ভুইয়া। চার মামার মধ্যে সবার ছোট নাছির ভুইয়া এখনো জীবিত। বড় মামা মরহুম সেকান্দর আলী ভুইয়া ছিলেন খাদ্য বিভাগের পরিচালক। মেজ মামা মরহুম রৌশন আলী ভুইয়া ছিলেন সদ্য বিভক্ত উত্তর বারেরা (বর্তমান কেরনখাল) ইউনিয়নের প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যান।

কর্নেল রশীদ -এর দুই খালা যথাক্রমে দেবিদ্বারের শাকতলা ভুইয়া বাড়ি ও একই থানার কুরছাপ ভুইয়া বাড়ি।
শাকতলা ভুইয়া বাড়ির বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মরহুম আতিকুর রহমান ভুইয়া, আনবিক শক্তি কমিশনের অফিসার মরহুম মজিবুর রহমান ভুইয়া ও অপর দুই ভাই ট্র‍্যাভেল এজেন্ট ব্যসায়ী ও ব্যাংকার। অপর খালাতো ভাই খাদ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মরহুম আবদুল মজিদ (কুরছাপ, দেবিদ্বার, কুমিল্লা )।
কর্নেল রশীদ খন্দকার মোশ্তাক এর আপন ভাগিনা এটা সঠিক নহে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী দশপাড়া, দাউদকান্দির খন্দকার মোশ্তাক-এর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে একমাত্র ছয়ঘরিয়া খন্দকার বংশের মরহুম মোশাররফ হোসেন(কর্নেল রশিদ এর বংশীয় চাচা) খন্দকারের বড় ছেলে, ডেমোক্রেটিক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বতর্মানে পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার রফিকুল হোসেন কাজলের। তিনি খুনী মোশ্তাকের ভাতিজি জামাই।

কর্নেল রশিদ তারা দুই ভাই। বড় ভাই খন্দকার আবদুল মান্নান (ডাক নাম মন্টু) ছোট কর্নেল (অবঃ) খন্দকার আব্দুর রশিদ (ডাক নাম রেন্টু)।

পরিশেষে জাতির এই ক্রান্তিকালে ডাক্তার নার্সদের পাশাপাশি ত্রাণ বিতরনে অংশগ্রহণকারী, সাংবাদিক,আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ঠ যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন,তাদের জানাই স্যুলুট।

লেখক: আশীষ মল্লিক

Related posts

অনন্য নজির গড়ে প্রশংসিত ভারতের এক মসজিদ

Mostafij Rahman

রাসূল (সা.) যা করতে বলেছেন দুর্যোগের সময়

Nurul Alam

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.