আলোড়ন নিউজ
Lead News রাজনীতি সারাদেশ

তৃনমুল থেকে উঠা আসা আদর্শিক যোদ্ধার নাম জননেতা আমিনুল ইসলাম : ফখরুদ্দীন বাবলু

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৃনমুল থেকে উঠা আসা জননেতা আমিনুল ইসলামকে আদর্শিক যোদ্ধার নাম হিসেবে আথ্যয়িত করলেন ৮০,৯০ দশকের মেধাবী ছাত্রনেতা ও তৎকালীন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন বাবলু।

‌স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, মানবসেবা, রাজনীতিই যাঁর চিন্তা-চেতনায় প্রধান আলোচ্য বিষয়। মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে’এ প্রত্যয়ে আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতির পথে এগিয়ে চলেছেলন।রাজনীতির পথ বড়ই পিচ্ছিল। এপথ দুর্গম, দুর্জয় আর দুর্লভ। অদম্য সাহস, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের ভালবাসা ‘আমিনুল ইসলাম’র রাজনীতির শক্তি, অবলম্বন ও সম্বল। শত প্রতিকূলতাকে জয় করে, হাজারো চড়াই উৎরাই ডিঙিয়ে যিনি রাজনীতির মহাকাশে আজ আপন আলোয় ভাস্বর। নিজের জন্মস্থান বীরচট্টলা কিংবা রাজনীতির স্বীয় দলের সীমা ছাড়িয়ে পরিণত হয়েছেন পুরা দেশের সম্পদে! নীতি আদর্শের বাতিঘর, মানবতার ফেরিওয়ালা, সৃষ্টিশীল, দূরদর্শী রাজনৈতিক আমিনুল ইসলাম। রাজনীতি উনার কাছে পেশা কিংবা জীবিকার মাধ্যম নয়, রাজনীতি উনার কাছে মানব সেবার ব্রত। এই শিক্ষা পেয়েছে তার পরিবার ও বর্তমান আওয়ামী লীগের পথপ্রদর্শক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছ থেকে।

‌চট্টগ্রাম দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ও রত্নগর্বা হাজেরা বেগম দম্পতির পাঁচ ছেলে এক মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তানটি আজ সারা দেশের গর্ব আমিনুল ইসলাম আমিন। বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতার কাছেই শুরু হয় ব্যক্তি জীবন ও রাজনীতির দীক্ষা। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোবহানীয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা আগে বলার কারণ, আমিন ভাই, যে প্রতিকূল সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন এবং সারাদেশে ছাত্রসামাজের কাছে আইকন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন ঐ কঠিন সময়ে রাজনীতি করে আবার সফলতার সাথে পড়াশোনা শেষ করা চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু তিনি পেরেছিলেন, কারন সৃষ্টি কর্তা সেই মেধা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা উনাকে দিয়েছেন। তাই তো আজ সারা দেশের লাখো ছাত্র যুবকের রাজনীতির আইডলের নাম আমিনুল ইসলাম আমিন।

‌মুক্তিযোদ্ধা পিতার রক্ত শরীরে, হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু
‌১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতির মূল মঞ্চে যাত্রা। এখান থেকে শুরু হলো সামনে এগিয়ে চলা, যেন অনেক দূর প্রান্ত হতে রাজনীতির আলোকিত ক্যাম্পাসে কেউ যেন ডাকছে। সদর্পে মেধা-মননে নিজস্ব যোগ্যতায় ১৯৮২সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ’র সদস্য। কখনো দ্রুত আবার কখনো ধীর পদক্ষেপে পথচলা। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক পদ অলংকৃত করলেন। যেসময় চট্টগ্রাম প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা বিরোধীদের ধারক ছাত্র সংগঠন গুলির, বিশেষ করে ছাত্রদল ও শিবিরের অাধিপত্য, কিন্তু বিধিবাম ওদের স্বর্গরাজ্যে তরুণ এক তুর্কীর হানা, মেধাবী, জাদুকরি নেতৃত্বগুণ, অধম্য সাহসী ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম পাল্টে দিলেন সমস্ত চেনাছক।

‌চট্টলার শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীনতার স্বপক্ষের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আলোচ্ছটা ছড়ালেন সারা দেশব্যাপী! পুরো দেশে ‘আমিন ভাই’। বহুদিন পর গা ঝাঁড়া দিয়ে ওঠলো বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ক্যাম্পাস। আরো অনেক কিছু করার নেশায় মত্ত অধম্য আমিন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন, সেই শুরু হলো আমিনুল ইসলাম’র রাজনীতির বৃহৎ পরিসরে বসবাস। রাজনীতির সফলতায় যুক্ত হতে লাগলো একে একে মেধার পালক। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে সহ-সভাপতি ১৯৯৮ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ অলংকৃত করার মাধ্যমে বর্ণাঢ্য ছাত্র রাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটে।

‌(১৯৮১-১৯৯৮) বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির আঙিনায় দীর্ঘ দুই দশক বারংবার আলোচিত একটি নাম আমিনুল ইসলাম আমিন। ছাত্রদের বহুবিধ সমস্যা সমাধানে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জাতির বিভিন্ন সংকটময় মুহুর্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থ ধারার ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। এক কথায় শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও উৎকর্ষে তাঁর সাহসী কার্যকরী পদক্ষেপ গুলো আজো স্মর্তব্য।

‌২০০২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন বীরচট্টলার কৃতীসন্তান আমিনুল ইসলাম আমিন। ক্ষমতার মসনদে তখনবিএনপি জামায়াত জোট দেশব্যাপী সন্ত্রাস, লুটপাট, আওয়ামী নেতাকর্মীদের উপর চলছে ইতিহাসের বর্বরোচিত দমন নীপিড়, মামলা-হামলা, হত্যা, জেল জুলুম অত্যাচারের শেষ নেই। এই দুঃসময়ে আসল কর্মীর পরিক্ষায় জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে ছিলেন আমিন ভাই। একে একে দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে হত্যা করেছে বিএনপি জমাত। সর্বশেষ ইতিহাসের জগন্যতম হত্যা কাণ্ড দিলো বিএনপি জমাত তারেক জিয়ার মদদে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেণ্ড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রাণনাশ, আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা। সৃষ্টি কর্তার কৃপায় জননেত্রী প্রাণে বেঁচে গেলও অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে আমরা হারায়। এই কঠিন দুঃসময়ে যখন অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়ছে, স্রোতের বিপরীতে আমিন বিশ্বস্ততার সাথে মমতাময়ী শেখ হাসিনা’র পাশে থেকে, ওনার আদেশ নির্দেশে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে ছিলেন আমিন ভাই। যেন পণ করেছিলেন প্রয়োজনে প্রাণ দিবো, তবুও শেখ হাসিনা’র পাশ থেকে সরবো না।

‌জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের জন্য
‌আমিনুল ইসলাম রাজনীতির মূল পরিক্ষায় অবতীর্ণ হলেন এবার। ১/১১ সেনা শাসনের সময়ে। দেশের রাজনীতির কালো অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত মইনু-ফখরু আমল। সেসময় একতৃতীয়াংশ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বন্দী করা হয় বিভিন্ন অপরাধে। কিন্ত বিনা কারনে রাজবন্ধী করা হয় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। কারারুদ্ধ জননেত্রী শেখ হাসিনা, বিভিন্ন মামলায় বেসামাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তার উপর দলের অনেক সিনিয়র নেতা মাইনাস ফর্মূলায় ব্যস্ত।

Related posts

গোপালগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে তিন মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

Ashish Mallick

কিছু ডিসি মোঘল সম্রাটের মতো আচরণ করছেন : ব্যারিস্টার সুমন

Ashish Mallick

আজকের এই দিনে ভবন ধ্বসে ঢাবির ৪০ জনের মৃত্যু

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.