আলোড়ন নিউজ
সারাদেশ

ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করার হুঁশিয়ারী দিলেন জাফর সেলিম

নিজস্ব প্রতিনিধি :দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মানুষ যখন দিশেহারা অসহায় করোনা আক্রান্তের হার যখন দিনের পর দিন বেডে যায় অন্য জেলার মতো ফেনী জেলা তাই সকল দিক বিবেচনা করে ফেনীবাসী কে সচেতন করতে যখন প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত ফেনীর স্বনামধন্য সাংবাদিক ইউনিটি ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি ঠিক তখনি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একটি কু-চক্রী চিহৃিত সাংবাদিক মহল পরোক্ষভাবে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।সম্প্রতি একটি ফেসবুক গ্রুপে ফেনী প্রেসক্লাব একাংশের এক নেতা ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদককে খুব বিশ্রি ভাষায় তার বংশের বিতর্ক তুলে অশ্লীল গালি দিয়ে তাচ্ছিল্যসুলভ কমেন্টস করেছেন এবং জীবন নষ্ট করে দিবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
প্রেসক্লাব আরেকাংশের একজন নেতা ফেনী রিপোর্টাস ইউনিটির একজন কার্যকরী পরিষদ সদস্য অতীতে কখন জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে একটি ছবি দিয়ে বিতর্ক জুড়ে দিয়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মান হানী করতে চাইছেন। আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্নের সাথে বিষয়গুলো লক্ষ্য করে লিখতে বাধ্য হলাম।

এটি খুব গর্হিত কাজ, অত্যন্ত দুঃখজনক, পীড়াদায়ক ও একে অপরের প্রতি প্রতিশোধ পরায়ন হবার উত্তেজনা ব্যান্জক।

আমার বোধগম্য হচ্ছে না, কেনো এমনটি করা হচ্ছে?
যারা করছেন, তারা আমার সহকর্মী বা অসহকর্মী যেই হোন না কেনো সকলেই আমরা একে অপরের পরিচিত মুখ। সে সুবাধে সবার দাগ,খতিয়ান সম্পর্কে সবাই অবগত আছি। চাইলে সবারটা সবাই বায়োগ্রাফী আকারেও তুলে ধরা সম্ভব। তাই বিনয়ের সাথে জানতে চাচ্ছি , আমরা কি ওপথেই এগুবো? নাকি একে অপরের প্রতি পেশাগত ভ্রাতৃত্বের সম্মান বা সাংগঠনিক সম্মান প্রদর্শন করবো? আশা করি আমাদের এটিচ্যুডের উপর তা নির্ভর করবে। অথবা সময়ই নির্ধারণ করে দিবে আমাদের আগামীর পথ…

ফেনীর সাংবাদিকতার বর্তমান হালচালে ‘গ্রুপ পলিটিক্স’ চরম আকার ধারন করে আছে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে এ পরিস্থিতির ‘পালস রেট’ বুঝি। এমনকি কার কতো রেট এটাও বুঝি….

আমি ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতির দায়িত্বে আছি, এটিই কি কোনো অপরাধ? এ বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই; আমিতো আর সারাজীবন সভাপতি থাকবো না। অতীতেও অনেকেই সভাপতি ছিলেন, ভবিষ্যতেও অনেকেই হবেন। এটাতো চলমান প্রক্রিয়া। ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রয়েছে নেতৃত্ব পরিবর্তনে গনতান্ত্রিক ধারা, নানা চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়েও বিশ্বস্তভাবে এটি প্রমানিত।

আমার সংগঠনের যারা আজকে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন, এঁদের মধ্যে অনেকেই ইউনিটির পূর্ব নেতৃত্বে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। আমি সভাপতি হওয়ার আগে যখন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি নৈতিকতার জায়গায় তখন যেমন ছিলাম, সভাপতি হওয়ার পরও নৈতিকতা তেমনিই রয়েছে। অতীতে আপনাদের নেতা হওয়ার পেছনে কি ব্যাক্তিগতভাবে একজন সদস্য হিসেবে আমার কোনোই আন্তরিক অবদান ছিলো না?

কিন্তু আপনাদের আচরনে মনে হয়, আপনাদের সমৃদ্ধ অতীতে কারোই কোনো অবদান ছিলোনা। তাইতো আপনারা আমার বা আমাদের প্রতি যে প্রতিদান দিচ্ছেন তাতে করে এ সংগঠনের ভবিষ্যত নিয়েও আমি খুবই উদ্বিগ্ন। কারন বিরোধিতার যে দ্বি-ধারা এখানে তৈরী হচ্ছে এটা মনে হয় তেল আর জলের না মেশা,
দা-কুমড়ার শত্রুতা বা সাপে-নেউলের মতো পরস্পর আক্রমনের স্থায়ী শত্রুতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে।

আমার ইউনিটির যেসকল সদস্য আমার পরিষদের বিরুদ্ধে গিয়ে সভাপতি হিসেবে আমার দায়িত্বের সেশনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দিতে চান। সহকর্মী হিসেবে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে বলছি; পৃথিবীর কোনো গৃহযুদ্বই কোনো প্রকার শান্তি বয়ে আনতে পারেনি। তাই অনুরোধ করবো, গৃহদাহে নিজেদের ঘরটা না পোড়াই। কারণ ঘর থাকলেইতো বংশ পরম্পরায় এখানে গড়ে উঠবে সৃষ্টিশীল ধারার একটি সাংবাদিক প্রজন্ম। আমরাতো এটাই চাই।

প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে থাকা আমার কতিপয় সহকর্মী সম্প্রতি একটা ছবির বিতর্ক জুড়ে দিয়েছেন যে, ইউনিটিতে আমার পরিষদের কোনো সদস্য অতীতে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো।
বর্তমান সময়ে এ বিষয় দিয়ে রাজনীতি খেলা পুরনো ষ্টাইল। এটা এখন খুব বেশি কার্যকরী কোনো ফর্মুলা নয়। এসব করবেন না। নাহয় ওইযে বললাম, আমাদের সবার দাগ খতিয়ান সবার জানা। কোন সাংবাদিক কোন দল করে? বা করতো? সেটার চেয়েও কে কোন
ধরনের সাংবাদিকতা করে? বা কে কোনপন্থী সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে? কার ব্যাকগ্রাউন্ড কি? কার কাছ থেকে কে কেমন সুবিধা নেয়? কোন সাংবাদিক কতজনের মাথা বিক্রি করে টাকা নিয়ে এসে ভাগাভাগিতে কতগুলো মাথা কেটে কমায়? আর এসব আত্মসাৎ কেলেংকারীতে কোন কোন সাংবাদিক নিজের মাথা হেট করেছে? কাদের কোন কোন সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমানিত হয়েছে? কোন কোন সাংবাদিক দূর্নীতি মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামী হয়েছেন? সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারে কার কতগুলো ডার্ক স্পট আছে। সবগুলোর শ্বেতপত্র নিয়ে ভুক্তভোগী অসাংবাদিকরাই হয়তো একদিন সংবাদ সম্মেলন করে বসলে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না।

আপনাদের মধ্যে অনেকেইতো জামায়াত পন্থী মিডিয়া স্টেশনে একদা কর্মও করেছেন।এখনো কেউ কেউ লিঁয়াজোও করেন। সেরকম কেউ যদি কোনো সহকর্মীর একটি ছবি দিয়ে তাকে ঘায়েল করার ফন্দী আঁটেন, তাহলে এটা বুমেরাং হয়ে আপনার দিকেও কি যেতে পারে না?

বিএনপি, জামায়াত-শিবির পন্থী সাংবাদিকরা এখনো জাতীয় পর্যায়ে একাংশ নামে ডিআরইউ, ডিইউজে, জাতীয় প্রেসক্লাব এবং বিএফইউজে সংগঠনে দৃশ্যমান আছে। ক্ষমতা থাকলে তাদেরকে বাজেয়াপ্ত করুন না।
তেমনি ফেনীর অনেকগুলো সাংবাদিক সংগঠনে জামায়াত শিবির পন্থী অনেক সাংবাদিক কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃত ও সম্মানিত এবং এদের অনেকেই আপনাদের মজলিশের মর্যাদাও বাড়ায় তা তাঁদের বিষয়ে কিছু বলবেন কি?

তা বুঝলাম ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির একজন সদস্য জামায়াত শিবির পন্থী আছে বলে আবিস্কারধর্মী বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর দিলেন। এই ইউনিটিতে জামায়াত শিবির বিএনপি পন্থী আরো অনেক বড় বড় নেতা টাইপের সদস্যও আছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এঁদের সদস্যপদ আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এঁদের সকলের সভাপতি। সংগঠনের এসব সদস্যগণ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রদ্রোহি বা সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে না জড়ান ততক্ষণ পর্যন্ত এঁরা সংগঠনের নিয়ম মেনে সংগঠন প্রদত্ত সকল সুযোগ সুবিধা ও সাংগঠনিক সুরক্ষা পাবেন। এর বিরুদ্ধাচরণে আপনাদের কারো কোনো শক্তি দেখানোর থাকলে আসুন, দেখি।

আপনারা কিছু সাংবাদিক নেতা আছেন, যখন জামায়াত শিবির পন্থী সাংবাদিকরা আপনাদের পক্ষে থাকে তখন তারা বেশ ভালো সাংবাদিক, তারা প্রগতিশীল চেতনাধারী সাংবাদিক। আর যখন আপনাদের বিরোধিতা করে তখন তারা হয়ে যায় প্রকৃত জামায়াত শিবির পন্থী সাংবাদিক। আপনাদের ডাবল স্টান্ডার্ড মেইনটেইনকারী এসকল সাংবাদিক নেতাদের আর কি কি বক্তব্য আছে এদের সম্পর্কে আসুন তাদের মুখোমুখি করে সামনা সামনি শুনি…..

পরিশেষে দায়িত্ব নিয়ে এটুকু বলছি, আমি ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমার পরিষদের কোনো সদস্যের প্রতি, আমার ইউনিটির কোনো সদস্যের প্রতি কারো কোনো রক্তচক্ষু প্রদর্শন, কারো কোনো অন্যায় ও বেআইনি আচরন, কারো কোনো পেশী শক্তি প্রদর্শন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবো না। যে কোনো মুল্যে এসব প্রতিরোধে আমি সদা প্রস্তুত আছি, এতে যদি আমার জীবনও হুমকির সম্মুখীন হয় আমি পিছ পা হবো না।

বিভক্ত ফেনী প্রেসক্লাবের একটি অংশের সাথে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছি। প্রেসক্লাব রাহুমুক্তি আন্দোলনে রক্ত ঝরিয়েছি, মামলা খেয়েছি। তাই এখানেও দায়িত্ব নিয়ে বলছি, প্রেসক্লাব যে অংশের অস্তিত্বের সাথে আমার অস্তিত্ব রক্ত ও মামলার প্রশ্নে জড়িত সেই ক্লাবের যে কোনো সংকট ও দুঃসময়ে আমি আমার সদস্য সুলভ একনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করবো। পাশাপাশি এও বলে রাখছি প্রেসক্লাবের সেই তুমুল আন্দোলনে আমার শরীরের রক্ত দান, মামলার আসামী হওয়া এবং অর্থ, শ্রম ও ঘাম বিসর্জনের সাথে কোনো স্বার্থান্বেষী নেতা যদি বেইমানী করে, কিংবা পেছনে পেছনে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র করে তবে তার জবাবও তাকে এই লোকালয়ে দিতে হবে,নিয়ে ছাড়বো, বাঁচি কিংবা মরি।

কালেক্টঃঃ মাসুদ রানা সম্পাদক ঢাকার বার্তা

Related posts

গত ২৪ ঘন্টায় ২৩৮১ জন শনাক্ত, মৃত্যু ২২ জনের

Ashish Mallick

সারা দেশে ২১৫ চিকিৎসক, নার্স ও পুলিশ করোনায় আক্রান্ত; আর কোয়ারান্টাইনে ১২০০ জন

Ashish Mallick

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.