আলোড়ন নিউজ
Lead News রাজনীতি সারাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম এ হান্নানের ৪৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর,স্বাধীনতার ঘোষক এম এ হান্নানের ৪৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ১৯৭১ সনে ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণার প্রথম পাঠক চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা এম এ হান্নান এর ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী।তিনি ১৯৮৪ সালে ১২ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

স্বাধীনতা আন্দোলন তার ভুমিকা অতুলনীয়।তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় অপারেশন করে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য তার অবদান অতুলনীয়। তার নামে চট্রগ্রাম বিমানবন্দর নামকরণ করেছিলেন কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামাত সরকার আসে তার নাম পরিবর্তন করে শাহ আমানত রঃ নামে নামকরন করেন।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এমএ হান্নান স্মৃতি সংসদ ও চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন।

এম এ হান্নান সম্পর্কে সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপকমিটির সদস্য তসলিম উদ্দিন রানা বলেন এম এ হান্নান শুধু বীর চট্রলার গর্ব না সারা দেশের গর্ব।তিনি প্রথম বঙ্গবন্ধুর সম্মতিতে ২৬ শে মার্চ চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।তার মত সংগঠক আজকের দিনে বিরল।তার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবেন ক্ষমতা তার কাছে কিছুই না আদর্শ ছিল প্রধান।তরুণ প্রজন্মকে তার ইতিহাস পড়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তার থেকে সবাইকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমিক হওয়া দরকার।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ১৯৭১ সনে ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণার প্রথম পাঠক চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা এম এ হান্নান এর ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এম.এ হান্নান ১৯৭৪ সালের ১১ জুন চৌদ্দগ্রামে এক সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হন এবং পরদিন ফেনী হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

জন্ম ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের তেহট থানার খাসপুর গ্রামে। তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান ব্রিটিশ ভারতে কংগ্রেস ও পরে মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারত বিভাগের পর মুহিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে সপরিবারে মেহেরপুর জেলার আমঝুপিতে এসে বসতি স্থাপন করেন।

এম.এ হান্নান ১৯৪৯ সালে মেহেরপুরের দারিয়াপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫১ সালে কুষ্টিয়া কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। ঢাকার জগন্নাথ কলেজে বি.এ অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রামে সিটি কলেজে নৈশ বিভাগে ভর্তি হন। একই সঙ্গে তিনি চার্টার্ড ব্যাংকে চাকরি গ্রহণ করেন। পরে তিনি আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবেও চাকরি করেন।

এম.এ হান্নান চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৬৬ সালের ৬-দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরোধী আন্দোলনে তিনি অংশ নেন। ১৯৬৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৭০ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে তিনি ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে ‘সোয়াত’ জাহাজ থেকে পাকিস্তানিদের অস্ত্র খালাসের বিরুদ্ধে ছাত্র শ্রমিক জনতাকে নিয়ে প্রতিরোধ সৃষ্টি করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে পাঠ করেন। পরে তিনি আগরতলা যান এবং সেখানে হরিনা যুব শিবির প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

এম.এ হান্নান ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সম্মেলনে (আই এল ও কনভেনশন) যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রেল শ্রমিক লীগের সভাপতি, চট্টগ্রাম জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

Related posts

পাখিউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে জামাল নামে এক যুবক নিহত

Ashish Mallick

 খাটের ভিতর থেকে ১২৩৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার, আটক ২

Ashish Mallick

নাসিমের মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত হয়ে অপু উকিলের এক বিবৃতি

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.