আলোড়ন নিউজ
Lead News বিশেষ খবর রাজনীতি সারাদেশ

এই মাত্র মারা গেলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,১৪ দলের সম্বনয়ক,সাবেক ডাক,টেলিযোগাযোগ, গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বর্ষীয়ান জননেতা মোহাম্মদ নাসিম ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের এই মুখপাত্রকে।

তার মৃত্যুতে রাষ্টপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,মিডিয়া,বুদ্ধিজীবী,
আইনজীবী ও বিভিন্ন মানুষ শোক জানান।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আওয়ামীলীগের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র সাবেক বিপ্লবী ছাত্রনেতা, দূরসময়ের রণতূর্যের সৈনিক, রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সুযোগ্য সন্তান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চোদ্দ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহ্‌ উনাকে জান্নাত দান করুন আমিন ছুম্মা আমিন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রেইন স্ট্রোকে সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠেছিল সাবেক মন্ত্রীর জীবন, সেই সঙ্কট আর কাটল না।

নাসিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় এম মনসুর আলী ও মা মোসাম্মৎ আমেনা মনসুরের ঘরে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মনসুর আলী স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

নাসিম জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন।

১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম। তখন সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্বও পান তিনি। তখন তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১, ২০১৪, ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাসিম এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও সেবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন নাসিম। ঢাকাসহ নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন।

জননেতা মোহাম্মদ নাসিম সম্পর্কে সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগ উপ কমিটির সদস্য তসলিম উদ্দিন রানা বলেন নাসিম সাহেব জাতীয় নেতা ছিলেন। আগাগোড়া একজন আদর্শিক রাজনীতিবিদ।মুক্তিযুদ্ধে তার ও তার পিতা জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর ভুমিকা ছিল অতুলনীয়।সব গনতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা।আজীবন মানুষ তার অবদানের জন্য স্মরণ করবে।আমরা হারালাম জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।যা দল ও দেশের জন্য অফুরনিয় ক্ষতি।

উল্লেখ্য,করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১ জুন রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। পরে তাঁর করোনাভাইরাস টেস্ট করা হয় এবং ওই দিন রাতে তাঁর করোনা পজিটিভ আসে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও পরদিন থেকেই মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা উন্নতি হয়। কিন্তু গত ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। পরে জরুরিভাবে ওই দিনই তাঁর অপারেশন করা হয়। পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাঁকে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

যদিও সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষায় আবার নেগেটিভে ফিরে আসেন তিনি। তবে শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। কয়েক দিন ধরে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গত ৫ জুন থেকে তিনি কোমায় ছিলেন। গতকাল শুক্রবার মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভির শাকিল জয় জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা আগের মতোই আছেন। অবস্থার কোনো উন্নতি বা পরিবর্তন হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদ নাসিমের মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছিলেন, নাসিমের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। অবস্থার উন্নতির জন্য সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে নাসিমকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবরও আসে। তবে শেষপর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। কেননা, সিঙ্গাপুর বা দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা ছিল না তাঁর। তবে দেশেই চলছিল তাঁর জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা। তবে, বাঁচানো যায়নি তাঁকে। সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করতে হলো দীর্ঘ সময়ের ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী নেতাকে।

Related posts

ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর কার কত সম্পদ!

Ashish Mallick

আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তন ২৩ জুন তথা ৭০বছরে পদার্পণ

Ashish Mallick

মালিবাগে বাস চাপায় ২ তরুণী নিহত; গাড়ি ভাঙ্গচুর

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.