আলোড়ন নিউজ
Lead News আন্তর্জাতিক খেলা

৩৪-এ পা রাখলেন লিওনেল মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পুরো নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচেত্তিনি। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে হোর্হে মেসি ও সেলিয়া কুচেত্তিনির সংসারে এসেছিল তৃতীয় সন্তান হিসেবে। লিওনেল মেসির রয়েছে কিছু ব্যক্তিগত অস্ত্র যেগুলো সে জন্মগতভাবেই হয়তো পেয়েছে। এই গুলোর সঠিক প্রয়োগের ফলেই সে আজ বিশ্বসেরার আসনে। তাকে নিয়ে আসলে কিছু বলার মতো ক্ষমতা নাই। এ সম্পর্কে একটা বিখ্যাত উক্তি করে গেছেন পেপ “তাকে বর্ননা করতে যেওনা শুধু দেখে যাও….

আজ তার জন্মদিনে তার কিছু অজানা কথা এবং রেকর্ড সম্পর্কে জানাবো।

আজকের এই দিনে রোজারিও সূর্য টা অন্য দিনের তুলনায় বেশি আলোকিত ছিলো ; কারণ ফুটবলের কিংবদন্তী সেই দিন জন্মগ্রহণ করেছিলো 🙂 তারপর থেকে আজ অবধি পৃথিবীর সব মানুষকে তার পায়ের কারিশমা দেখিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছে।

তাঁর ড্রিবলিং যতটা দুর্বোধ্য, মানুষ তিনি ততটাই সরল। মেসির সেই সারল্য প্রকাশিত হয় সব সময়। বিশ্বের বড় বড় তারকা ডিফেন্ডার + গোলকিপারদের অনায়াসে শিকার বানিয়েও সে রকম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন না; উদযাপন করেন না তা নয়। কিন্তু সেটা রিয়াল মাদ্রিদ হোক আর সেভিয়া হোক সেই উদযাপনে কোনো আবেগের বাড়াবাড়ি থাকে না।

তিনি একজন ভিনগ্রহের ফুটবলার, খেলেন প্লে-স্টেশনের নায়কের মতো, মর্তের সকল গুরুত্বপূর্ণ শিরোপাই তাঁর ঝুলিতে আছে। শুধু বাকি ছিল (এখনো আছে) একটি ট্রফি—বিশ্বকাপ।

তাঁর দৌড়-পাস-শট সব কিছুতেই ইন্দ্রজাল ছড়ানো—যেন ইগুয়াজুর ছন্দে জুল সোলারের তুলির আঁচড় । ৫ বার
ফিফা ব্যালন ডি‘অর জিতে আজ যিনি অমরত্বের খাতায়। বিধাতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রায় সবই দিয়েছেন, বিশ্বকাপটাও দিলে হয়তো সকল ক্ষুধাই মিটে যেত। আর প্রাপ্তির খাতা পূর্ণ হলে আকাঙ্ক্ষাও তো শূন্য হয়ে যায়। তাইত মহানায়কের জন্য উন্মুক্ত রইল রাশিয়া।

বার্সা সুপারস্টার তার গোল, মেডেল ও ম্যাজিক দিয়ে বারবার সোনার অক্ষরে ফুটবলের রেকর্ড পাতায় নিজের নাম লিখেছেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পা রাখেন মেসি , ২০০৩ সালে পোর্তোর বিপক্ষে বার্সার হয়ে অভিষেক হয় , তারপর থেকে আজ অবধি স্মৃতি তে গেঁথে রাখার মতো মুহুর্ত উপহার দিয়ে যাচ্ছেন ।

২০০৫ সালে ‘গোল্ডেন বয়’ পুরস্কার পান , ২০০৭ সালে এল-ক্লাসিকো তে হ্যাট্রটিক করেন মেসি , তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এল-ক্লাসিকোর সেরা গোল স্কোরার , মেসির একটা রেকর্ড আছে যেটা অনেকেই মনে হয় জানে না সেটা হলো – ২০১০ সালে এক সপ্তাহে ১০ গোল করেন।

মেসির করা অনেক গুলা গোল আছে যেগুলা ইউটিউব থেকে হাজার বার দেখলে ও মন ভরে না। তবে ভক্তরা সব চেয়ে বেশি দেখেছে ২০০৭ সালে গেতাফের বিপক্ষে করা গোল টা ।

২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল – সেই ম্যাচে মেসি ২ গোল করেন , অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ ছিলো সেমিফাইনাল ছিলো যতটুকু মনে আছে।মাঝমাঠের ডান পাশ থেকে লম্বা চুলের খেলোয়ার মেসি বল নিয়ে গেতাফের ২ ডিফেন্ডারকে ড্রিবলের মাধ্যমে পরাস্ত করে ঢুকে পড়েন ডী-বক্সের কাছাকাছি , তারপর আরো তিনজনকে , সামনে শুধু গোলকিপার , তাকেও পরাস্ত করেন চোখের পলকে , তারপর দৃষ্টিনন্দন গোল ।

১৯৮৬ সালে , ৬২ মিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে গোলরক্ষকসহ ছয় জনকে কাটিয়ে একই স্থান থেকে গোল করেছিলেন এবং কর্ণার ফ্লাগের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা , সেদিন মেসি ম্যারাডোনার কার্বন কপি হিসাবে গোল টা করেছিলেন স্পেনীয় সংবাদ মাধ্যম তাকে ‘‘মেসিদোনা’’ উপাধিতে ভূষিত করে।

মেসির কিছু বিশ্বরেকর্ড যেগুলা সহজে কেউ ভাংতে পারবে বলে মনে হয় না:

সব চেয়ে বেশি ব্যালন ডি অর জয়ী ( ৫ বার )

ফিফা ফিফপ্রো একাদশে ১০ বার জায়গা পেয়েছে!

মোস্ট গোল স্কোর ক্লাব বিশ্বকাপ এ – ৫ গোল

একমাত্র খেলোয়ার হিসাবে ৬ টা বিভিন্ন ক্লাব প্রতিযোগিতায় ২ বার করে গোল করেছেন ( ২০১১ -২০১৫ )

ব্যালন ডি ওর এর জন্য সবচেয়ে বেশি মনোনীত হয়েছেন মোট ১১ বার

এক সিজনে সবচেয়ে অফিসিয়াল গোল করার জন্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস শিরোনাম ৯১ গোল (২০১২ সালে )

এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা (ক্লাব প্রীতি সহ): ৯৬ গোল (২০১২)

একটি বছর এ সর্বাধিক আন্তর্জাতিক গোল (ক্লাব ও জাতীয় দল): ২৫ গোল (২০১২) (ভিভিয়ান উডওয়ার্ড ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে)

সর্বাধিক টানা ম্যাচে গোল: ২১ ম্যাচ (৩৩ গোল)

প্রথম ফুটবলার হিসাবে পেশাদার লীগে তিনি সব দলেরই বিরুদ্ধে পরপর স্কোর করেন

সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসাবে ৩ বার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয় করেন মেসি (২৪ বছর, ৬ মাস এবং১৭ দিন)

ইউরোপিয়ান রেকর্ড:

দ্রুততম খেলোয়াড় হিসাবে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগ ৩০০ গোল করেন (৩৩৪ ম্যাচে )

সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ ম্যাচ খেলেন

সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসাবে ৪০০+ গোল করেন ইউরোপীয় ক্লাব এ (৩০০ দিন ২৭ বছর)

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একই ক্লাবের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গোলদাতা: মিলান বিরুদ্ধে 8 গোল ( লুইজ আদ্রিয়ানোর সঙ্গে যৌথভাবে)

সর্বাধিক গোল একটি মৌসুমে গোল: ৫০ গোল

সর্বাধিক গোল একটি মৌসুমে (ক্লাব) গোল: ৭৩ গোল

সর্বাধিক গোল একটি বছর (ক্লাব) গোল: ৭৯ গোল

সর্বাধিক ইউরোপীয়ান কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরষ্কার: ৫

একটি একক চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে সর্বাধিক হ্যাট্রিক: ২

হ্যাট্রিক (ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, মারিও গোমেজ এবং লুইজ আদ্রিয়ানোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া)

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে হ্যাট্রিক: ৫ হ্যাট্রিক

একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা সর্বোচ্চ গোলদাতা: ৫ গোল (লুইস আদ্রিয়ানো সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া)

একমাত্র খেলোয়ার হিসাবে ইউরোপীয় কাপে ২৩ টি বিভিন্ন শহরে স্কোর
করেন

একমাত্র খেলোয়ার হিসাবে ৪ টি সিজন এ টপ স্কোরার হওয়া <3 সর্বাধিক উয়েফা বেস্ট প্লেয়ার পুরস্কার: 2 মেসিকে নিয়ে বলা ইতিহাসের কয়েকজন নামী-দামী মানুষের উক্তি , মেসিকে নিয়ে অনেকেই অনেক সুন্দর সুন্দর উক্তি দিয়েছেন , তার মধ্যে কিছু উক্তি নিচে দেওয়া হলো। একনজরে দেখে নিন লিওনেল মেসি সম্পর্কে বিখ্যাতদের বিভিন্ন বাণী:
.
যখন আমি মেসির সাথে খেলতাম, তখন আমার দৌড়াতে মন চাইত না, শুধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে তার খেলা উপভোগ করতে মন চাইত” (:থিয়েরি অরি)

মেসি সবসময় ব্যবধান গড়ে দেয়! ফুটবল প্রেমিক হিসেবে আপনার কাজ, শুধুই উপভোগ
করা! ( জিদান)

“এটি খুবই সাধারন যে মেসিই বিশ্বের সেরা খেলোয়ার করতে পারে।আমি তার একজন ভক্ত : নেইমার

“রোনাল্ডোর ভাগ্য খুব ভাল যে সে প্রতি বছর মেসিকে ব্যালন ডি অর জিততে দেখার জন্য সামনের সারির টিকেটটি
পায়।” : ইব্রাহিমোভিচ

“যখন বার্সেলোনার খেলা শুরু হয় তখন ব্রাজিলের অধিকাংশ রাস্তা ঘাট খালি হয়ে যায়, সবাই মেসির খেলা
দেখার জন্যে টিভি সেটের সামনে বসে পরে”: রোনালদিনহো
.
আমি সেই খেলোয়াড়টির খেলা দেখেছি যে কিনা আর্জেন্টিনায় আমার আসনে ভাগ বসাতে যাচ্ছে, তার নাম
লিও মেসি”: ডিয়েগো ম্যারাডোনা
.
“কেউ যদি আমার মাথায় বন্ধুক ধরে জিগ্বেশ করে কে সেরা, তখনো আমি মেসির কথাই বলব” : বুস্কেটস

মেসি হল ইশ্বরপ্রদত্ত সামর্থ্যের ফুটবলার, পেলে ও ম্যারাডোনার মত : অলিভার কান

মেসিকে আমি বিশ্ব সেরা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ও আমাকেই সেরা করে ছেড়েছেন” : পেপ গার্ডিওলা

“রোনাল্ডো একজন অসাধারন প্লেয়ার। কিন্তু তার ভাগ্য অনেক খারাপ যে সে ভুল সময়ে জন্মগ্রহন
করেছে: আর্সেন উয়েঙ্গার

“আমি মনে করি রোনাল্ডোই সব চেয়ে কমপ্লিট ফুটবলার। আর সেই বিশ্বের সেরা প্লেয়ার। (সাংবাদিক মেসির কথা জিজ্ঞাসা করলে) আমিতো বিশ্বের কথা বলেছি। আর মেসিতো হচ্ছে আউট অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড” : স্যার ফার্গুসন

বিশ্ব ফুটবলের জন্য মেসি একটি গুপ্তধনের মত! সে সারা বিশ্বের শিশুদের জন্য রোল মডেল; মেসিই হবে ফুটবল
ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি ওর জেতা খেলোয়ার! সে ৫,৬,এমনকি ৭ টাও জিততে পারে! সে অপ্রতিদ্বন্দী! সে
অন্য জিনিস!: লিজেন্ড ক্রুইফ

মেসি একজন জিনিয়াস ! তার সব আছে! আমি এমন একজন খেলোয়ারকে দেখছি, যে খুবই দুর্দান্ত,খুব চালাক এবং তার বাম পা ডিয়েগো ম্যারাডোনার মত! বেকেনবাওয়ার ( জার্মান লেজেন্ড)

আমি মেসিতে মুগ্ধ! যা সে করছে, তা খুবই ভাল! সে সবসময় তার দলের জন্য খেলে! খুবই বুদ্ধিমান একজন খেলোয়ার!সে সেই জায়গায় ই চাপ প্রয়োগ করে, যেখানে সেটা দরকার! : ডি স্টেফানো

মেসিই সেরা , ফুল স্টপ ।:দেল বস্কো ( স্পেন )

মেসি এমন একজন প্লেয়ার সে যে কোন সময় মাঠে নেমে সবকিছু পরিবর্তন ঘটাতে পারে’: ( সাবেলা আর্জেন্টিনা

মেসির ওপর নির্ভরশীলতা ? এটি নতুন কিছু নয় এবং এটি সাধারণ ব্যাপার কারণ সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় । আশা করি তার উপর আরও অনেক বছর নির্ভরশীল থাকতে পারবো : টিটো ভিলানোভা সাবেক কোচ

আমার আফসোস মেসির সাথে আরো কয়েকটি মৌসুম খেলতে পারলাম না । মেসি আমার ভাল বন্ধু” : গ্রেট দিনহো

ম্যারাডোনার খেলা অনেক দেখেছি। ওর বিপক্ষে খেলেছিও। সেও ছিল দুর্দান্ত। তবে মেসি ওরচেয়ে ভালো এবং ধারাবাহিক। ও শুধু ডিয়েগোরপ্রতিভাই পায়নি, আমাদের দেখা সর্বকালের সবচেয়ে সেরা
গোলস্কোরারও।”: গ্যারি লিনেকার

“মেসি পৃথিবীর সেরা খেলোয়ার। মেসি এমন একজন খেলোয়ার, যখন কোন শিশু তার খেলা দেখে সে ও মেসির মত হতে চাই: ডেভিড ব্যেকহ্যাম

মেসিই ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়ার । তার মত আর কেউ নেই : রুনি (ম্যান ইউ সুপারস্টার )

“ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে রোনালদিনহো ভাল কিন্তু মেসির মতভাল কেউ নেই : এন্টোনিও কাসানো (এসি
মিলান)

বিশ্বে শুধু মাত্র একজন খেলোয়ার ই আছে যা সে করতে পারে আমি তা কখনো পারব না আর সে হল মেসি। শুধু
মেসি ই আমার থেকে সেরা। : ফ্রান্সিস কো টট্টি ( ইতালি লেজেন্ড)

আমি মেসির মত ভালো না , মেসি সবার সেরা”: টমাস মুলার (জার্মান ফুটবলার)

এই মানুষ টা সারা পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে যে কিভাবে ফুটবল টা কে কিভাবে ভালবাসতে হয়। প্রতিনিয়ত হেটারদের মুখ বন্ধ করেছেন একের পর এক দর্শনীয় গোল করে ; খেলোয়াড় হিসাবে যতটা ভালো তারচেয়ে বেশি ভালো মানুষ হিসাবে ;

যার জন্য অনেকের সবচেয়ে পছন্দের মানুষের তালিকায় সবার উপরে মেসি থাকে সব সময় ; সবুজ ক্যানভাসে নিজের কাজ টা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন নিখুঁত ভাবে ; ভাবতেই কষ্ট লাগে আর কিছু দিন পর বুট জোড়া যখন তুলে থাকবে তখন সাপোর্টার্স দের কি হবে ; সময় নিয়ত প্রবহমান ; কারো জন্য থেমে থাকে না ; মেসির ক্ষেত্রেও একই।

লিও মেসি জন্ম না নিলে ফুটবল কারো কাছে কেমন আকর্ষণ হতো তা বলা দূরহ , তবে কারো কারো কাছে ফুটবলের রঙ হারাতো , কারণ মেসিকে দেখেই অনেকে ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখেছে , মেসি রা বার বার জন্ম নেই না , শতাব্দীতে একবার আসে কিনা সন্দেহ আছে , জন্মদিন উপলক্ষে ফুটবল প্রেমিদের একটাই চাওয়া সব সময় ইঞ্জুরি মুক্ত মেসি এবং তার দীর্ঘায়ু । শুভ জন্মদিন মেসি।

Related posts

বাগদান সারলেন পরীমনি-তামিম

Ashish Mallick

প্রতারণার স্বীকার হয়ে ইডেন ছাত্রীর আত্মহত্যা

Ashish Mallick

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ চায় ঐক্যফ্রন্ট

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.