আলোড়ন নিউজ
Lead News মুক্তমত সারাদেশ

গনতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, রাজতন্ত্র এবং করোনা বিস্তার সমাচার

করোনাভাইরাস আজ বিশ্বব্যাপী এক মহা আতংকের নাম। এই ভাইরাসের করাল গ্রাসে আজ সমগ্রবিশ্ব অস্থির, অশান্ত এবং বিষাদগ্রস্থ। পৃথিবীর প্রায় সব কয়টি দেশে এই ভাইরাস ধারা বিস্তার লাভ করেছে। ফলশ্রুতিতে দেশগুলোতে দেখা দিয়েছে এই ভাইরাসের আক্রান্ত রোগ। আর এই রোগটি খুবই উঁচুমাত্রায় ছোয়াচে এবং মরণঘাতী। রোগের লক্ষণ হলো রোগীর ঠান্ডা,সর্দি জনিত উপসর্গ ঘটিয়ে লালা এবং নাক দিয়ে সর্দি নিঃসরণ ঘটিয়ে রোগীর দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভেঙ্গে দেয়। প্রবলভাবে আক্রান্ত হয় ফুসফুস। ফলে রোগাক্রান্ত ব্যাক্তি খুব দ্রুত মৃত্যু মুখে পতিত হয়। আর মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার পথে নাকের সর্দি লালা রুগীর হাতের মাধ্যমে এবং হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে অন্য সুস্থ সবল ব্যক্তিদের শরীরে ছড়িয়ে দেয়। কাজেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অতি দ্রুত সুস্থ্য ব্যক্তির সংস্পর্শে থেকে সরিয়ে নিতে হয়। এই পদ্ধতি গ্রহন করতে গিয়ে প্রজাসাধারণকে সুস্থ রাখতে গিয়ে প্রতিটি দেশের সরকারপ্রধানকে নিতে হচ্ছে বিভিন্ন পদ্ধতি এবং ব্যবস্থা। এই পদ্ধতি গুলো লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইন এবং আইশোলেশন নামে লোকের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। অপরদিকে এই মহামারি প্রানঘাতি রোগের এখনো টিকা, ঔষধ বা প্রতিশেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই জনগনকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার দিকেই দেশের সরকার প্রধানগণ প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এই লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইন এবং আইশোলেশন পদ্ধতি চালু করতে এবং চলমান রাখতে গিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকার প্রধানগণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ পৃথিবীর একেক দেশে একেক প্রকার সরকার ব্যবস্থা চালু আছে। কোন দেশে আছে গনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা কোন দেশে আছে একনায়কতন্ত্র আবার কোন দেশে আছে রাজতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা।

আমরা প্রায় সকল সচেতন নাগরিকরাই জানি এই তিন প্রকার সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে। এখন বিশ্লেষন করে দেখার বিষয় করোনাপ্রাদুর্ভাব রোধ করতে গিয়ে, দেশের জনগণকে কর্মহীন করে সকল প্রকার যানবাহন, কলকারখানা বন্ধ করে রেখে, ঘরে থাকতে বাধ্য করে পাশাপাশি জনগণের জীবন যাত্রার মান ঠিক রেখে দেশের এবং প্রতিটি লোকের পারিবারিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধরে রাখতে কোন ধরণের সরকার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর।

গনতন্ত্রঃ গনতান্ত্রিক সরকার জনগনের সরকার। জনগন কর্তৃক নির্বাচিত সরকার। সরকার প্রতি পদে পদে জনগনের কাছে জবাবদিহী করতে বাধ্য। জনগনের উপকার করার লক্ষে সরকারপ্রধান কোনপ্রকার উদ্যোগ গ্রহন করলে তা সরকার প্রধানকে নিশ্চিত করতে হয় যে তা জনগণের যথাযথ উপকার করবে।

জনগনের সমালোচনা এবং অসন্তুষ্টি সরকার প্রধানকে আমলে নিতে হয়। কারণ এই পদ্ধতিতে জনগনের ভোট প্রাপ্তির মাধ্যমে সরকার গঠন হয়। গনতান্ত্রিক সরকার জনকল্যাণমুখী সরকার। জনগনের যথাযথ হিতসাধন করতে সরকার বাধ্য। কাজেই করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে লকডাউন এবং হোম কোয়ারেন্টাইন কার্যকর করতে গিয়ে সরকারকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আমরা দেখতে পাই, আমেরিকা, ইতালী, স্পেন, ইংল্যান্ড, ভারত এবং বাংলাদেশ প্রভৃতি গণতান্ত্রিক দেশের সরকার প্রধানগণ যথাযথ লকডাউন পদ্ধতি গ্রহন করার পরও জনগণ ঘরের বাহির হচ্ছেন। কারণ গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বসবাসকারী খোলা মনের অধিকারী জনগণ হঠাৎ করে লকডাউন এর মত স্বার্থপরতাপূর্ণ একক এবং বিচ্ছিন্ন জীবনব্যবস্থা রপ্ত করতে অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তাদের স্বাভাবিক আচরণ, করমর্দন, চুম্বণ, কাছাকাছি আনন্দঘন পরিবেশ চলার সুযোগ নিয়ে করোনা প্রবলভাবে আঘাত হানতেছে। বিপরীত ক্রমে চীন, উত্তর কোরিয়া, মায়ানমার, কাজাকিস্তান, তুর্কি মিনিস্তান প্রভৃতি দেশে করোনা প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়। কারন এসব দেশের জনগণ আগে থেকেই সরকার আরোপিত, নিয়ন্ত্রীত জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিল।

একনায়কতন্ত্রঃ
একনায়কতন্ত্র বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারপ্রধান ও জনগনের মতামতের মূল্যায়ন করে থাকে না। সরকারপ্রধান যে পদ্ধতি জনগণের জন্য উপকারী এবং উপযোগী মনে করেন, সেই
পদ্ধতি জনগনের ওপর চাপিয়ে দেন। তাই দেখা যাচ্ছে যে একনায়কতন্ত্র শাষিত সরকারপ্রধানদের পক্ষে জনগনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রন করা অনেকটাই সহজ। কারন সরকার কর্তৃক আরোপিত কোন ব্যবস্থা মনঃপুতনা হলেও জনগনের করার কিছু নেই। নেই আন্দোলনে যাওয়ার সুযোগ। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘন হলেও সরকার বিচলিত হননা বা অস্থিরতায় ভোগেন না। তবে একনায়কতন্ত্রে সরকারপ্রধান যদি দক্ষ এবং যোগ্য হয়ে থাকে তবে জনগণ সুফল পেয়ে থাকেন।

রাজতান্ত্রিক সরকারঃরাজতান্ত্রিক সরকারগুলো জনগনের হিতকামনা করার চেয়েও তাদের নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত রাখতে সদা ব্যস্ত থাকে। নিজেদের সুবিধামত এবং চিন্তা মাফিক জনগণকে চলতে বাধ্য করে। এতে করে দেশের জনগণের অনেক মানবিক অধিকার লংঘন হলেও সরকারে বিচলিত বা চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। রাজতান্ত্রিক সরকার নিজের মত করে নিজেদের সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, এই প্রকার সরকারব্যবস্থা যে সকল দেশে চালু আছে সে সকল দেশের সরকার প্রবীণদের পক্ষে করোনা মহামারীকালীন সময়ে জনগণকে ঘরে রাখতে বাধ্য করা খুবই সহজ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটঃ বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তদুপরী বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে অন্যতম একটি ঘনবসতিপূর্ন দেশ। ছোট আয়তনের দেশে অধিক সংখ্যক লোকবাস করে। কিন্তু অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এই যে, বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদৃষ্টি এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টি ভঙ্গি এবং মনোভাবের কারনে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহন করেছেন। তিনি শিল্প এবং কৃষিখাতে প্রণোদনা ঘোষনা করেছেন। ব্যাংক ঋণের সুদের হার নেয়া আপাতত বন্ধ ঘোষনা করেছেন, চারপাঁচ কোটি নিম্ন আয়ের মধ্যে ত্রান সহায়তা প্রদান করেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে পঞ্চাশ লক্ষ পরিবারের মধ্যে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ টাকা প্রদান করেছেন। দেশের মধ্যকার অনেক গুলো মেডিকেল হাসপাতালে করোনা রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার জন্য নতুনভাবে পাঁচ হাজার ডাক্তার এবং নার্স নিয়োগ দিয়েছেন। সরকারি দল আওয়ামী লীগের তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রানকার্য পরিচালনার জন্য সেল গঠন করেছেন। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের মতো দারিদ্রক্লিষ্ট, ঘনবসতিপূর্ণ গনতান্ত্রিক দেশের সরকারপ্রধান হয়েও তিনি এতটুকু ভীত বা বিচলীত না হয়ে প্রতিনিয়ত জনগনকে অভয়বানী শুনিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নিচ্ছেন সময় উপযোগী পদক্ষেপ। গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটি জনগণকে যথাযথভাবে খুশি রেখে প্রত্যেকের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে তিনি সদা ব্যস্ত। বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জৈষ্ঠ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে করোনামুক্ত করতে যথাযথ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি লকডাউন চলাকালীন সময়ে প্রতিটি কর্মহীন এবং আয় রোজগারহীন জনগণকে ত্রাণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখবেন যা তার হাত ধরেই শুরু হয়েছে। আর জনগণকেও সরকার আরোপিত লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন প্রভৃতি বিধি বিধানগুলো যথাযথ ভাবে মেনে চলতে হবে। তবেই বাংলার বুক থেকে এই মরণঘাতী করোনাভাইরাস অচিরেই বিদায় নিবে। মানুষের মুখে ফুটে উঠবে হাসি।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট মিঠুন দে

Related posts

এবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খোকন আটক

Ashish Mallick

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এম এ হক আর নেই

Ashish Mallick

ক্যাসিনো সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ

Ashish Mallick

5 comments

ปั้มไลค์ June 29, 2020 at 6:25 pm

Like!! Great article post.Really thank you! Really Cool.

Reply
ทิชชู่เปียกแอลกอฮอล์ June 29, 2020 at 6:25 pm

I like the valuable information you provide in your articles.

Reply
กรองหน้ากากอนามัย June 29, 2020 at 6:27 pm

These are actually great ideas in concerning blogging.

Reply
เบอร์สวย June 29, 2020 at 6:28 pm

Thanks for fantastic info I was looking for this info for my mission.

Reply
SMS June 29, 2020 at 6:29 pm

Thanks so much for the blog post.

Reply

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.