আলোড়ন নিউজ
প্রযুক্তি

নাসার ইঞ্জিনিয়ার একসময় গণিতে খুবই দুর্বল ছিল

বিজ্ঞান নিয়ে টুকিটাকি জ্ঞান রাখে কিন্তু নাসার নাম শুনেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আকাশ গবেষণার সবচেয়ে বড় আমেরিকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স এন্ড স্পেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন” সংক্ষেপে নাসা। চাঁদে মানুষ পাঠানো থেকে শুরু করে মহাকাশের বড় বড় যত অভিযান সব কিছু পরিচালনায় থাকে নাসা। এই নাসার এক ইঞ্জিনিয়ারের কথা বলছি। তিনি শুধু ইঞ্জিনিয়ারই না তিনি “এডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং ডেপলপমেন্ট” ব্রাঞ্চের প্রধান। নাম জসেফিন সানতিয়াগু-বন্ড। আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে ওঠেছেন ফিলিপাইনে। নাসা তাদের কার্যক্রম গোপন রাখার চেষ্টা করে। তাই আমেরিকার স্থায়ী কেউ ছাড়া নাসাতে কাউকে উচ্চপদে নেয়া হয় না।

সানতিয়াগু এ ব্যাপারে বলেন “আমি ফিলিপাইনের সুন্দর এক জায়গায় বড় হয়েছি, এখন আমি মনে করি আমেরিকা আমার ঘর আমি আমেরিকাকে ভালবাসতে এসেছি”।

১২ বছর বয়সে তাকে পড়াশুনার জন্য ঘর ছাড়তে হয়েছে। তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ফিলিপাইন সাইন্স হাইস্কুলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু তার বাবা মা বোন সবাই ডাক্তার। ছোটবেলায় তার খেলার সঙ্গী ছিল বিভিন্ন নির্দেশক এসিড এবং ক্ষার। তখনই বিভিন্ন ক্যামিকেল সম্পর্কে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন কালার কম্বিনেশন ও ধাঁধার খেলা তার খুব ভাল লাগত। এই সব কিছুতে বিজ্ঞানের ব্যাবহার নিয়ে তিনি কাজ করতেন।

১৭ বছর বয়সে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ফিলিপাইনে ভর্তি হন। ইলেকট্রনিক্স এন্ড কম্যুউনিকেশন ইজ্ঞিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। ইজ্ঞিনিয়ারিং পড়ার সময় তিনি খেয়াল করলেন তার স্কুল জীবনে সফল হয়ে আসা সময়গুলো এখানে অনেক কঠিন হয়ে ওঠেছে। তাকে গণিতে বেশ হামাগুড়ি খেতে হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হতো সব কিছু ছেড়ে দিতে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ইজ্ঞিনিয়ারিং সমস্যা সমাধান তার কাছে প্রথম দিকে বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি নিজের উপর ভরসা আসা না পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করে যেতেন। তিনি বলেন-“ আমার অনেক গুলো নির্ঘুম রাত আর অধ্যাবসায়ের গল্প আছে।”

স্নাতক শেষ করার পর তিনি আমেরিকা চলে আসেন। আমেরিকাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের জন্য সাউথ ডাকোতা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হন। এখানে লেখাপড়া করার সময় তিনি কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিজের একটা পার্টটাইম জবের ব্যাবস্থা করেন। এই তো তার স্পেস নিয়ে কাজ শুরু। জসেফিন সেখানে কাজ শুরু করার আগে স্পেস নিয়ে তার বিন্দুমাত্র জ্ঞান ছিল না। স্পেস স্যাটাল সম্পর্কে জানতেন না এমনকি আমাদের চারদিকে যে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন ঘুরছে সে সম্পর্কেও তিনি প্রথম জানেন কাজ শুরু করার পর।

ডিপার্টমেন্টের প্রধান হওয়ার আগে জসেফিন ছিলেন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার থাকার সময় তিনি আকাশ অভিযানের বিভিন্ন টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো সমাধান করতেন। ২০১৭ সালে লুনার মিশন নিয়ে কাজ করেন।

সবার উদ্দেশ্যে জসেফিন বলেন, “অনেক বড় স্বপ্ন দেখ। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সুযোগগুলো বের করো। নিজের সীমাবদ্ধতাকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে এসো। এমন সব কঠিন কাজ বেছে নাও যেগুলোর সাথে তুমি অভ্যস্ত ছিলে না। তুমি যতই দক্ষ হও মনে রাখবে তোমাকে আরো দক্ষ হয়ে ওঠতে হবে। প্রথম চেষ্টাতে সফলতা আসুক কিংবা না আসুক সফল হওয়ার আগ অবধি তোমার প্রত্যেক চেষ্টাই হবে সেরা চেষ্টা। প্রতিদিন যোগ্যতা বাড়াও, দৃষ্টিভঙ্গি খতিয়ে দেখ, দক্ষতাকে সঠিকভাবে ব্যাবহার কর তোমার স্বপ্নকে জয় করতে।”

Related posts

Dark Net – (ডার্কনেট) এর খুটিনাটি

RAFA

এলিয়েন পৃথিবী সফরে এসেছিল!

Ashish Mallick

‘ডিজিটাল শিক্ষার এখনই সময়’ : সাইফুল ইসলাম তালুকদার

Ashish Mallick

Leave a Comment

* By using this form you agree with the storage and handling of your data by this website.